লোকমুখে ‘মৃত’ শুনে বন্ধ ভিক্ষুক নুরজাহানের ভাতা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

ফরিদপুরের নগরকান্দা পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড জগদিয়া-বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা নুরজাহান বেগম (৮৪)। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই। নিজের জায়গা-জমি কিছুই নেই। এক মেয়ে আছেন। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর থেকে স্বামীর বাড়িতেই থাকেন তিনি। এ অবস্থায় রাস্তার পাশে একটি কুঁড়েঘরে থাকেন এই বৃদ্ধা। ভিক্ষাবৃত্তি করেই তার পেটের খোরাক চলে।

সরকারি সুবিধার মধ্যে শুধু বয়স্ক ভাতার টাকা পেতেন নুরজাহান বেগম। তবে এখন ভাতার টাকা পাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। বাস্তবে তিনি জীবিত থাকলেও বয়স্ক ভাতার তালিকায় তিনি এখন মৃত।

তবে শুধু নুরজাহান বেগম নয়, আরও দুজনের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটেছে। তারা হলেন-মজিবুর রহমান ও নীল কর্মকার। তারা দুজনও পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভিক্ষা করে পেট চালানো নুরজাহান বেগম দীর্ঘদিন ধরে বয়স্ক ভাতা ভোগ করে আসছিলেন। তবে হঠাৎ ভাতার তালিকায় তাকে মৃত দেখিয়ে ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

নুরজাহান বেগম জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতি মাসে ভাতার টাকা পেয়ে ওষুধ কিনে খেতাম। এখন ভাতার টাকাও পাই না, ওষুধও কিনে খেতে পারছি না। অফিসে গিয়ে বারবার স্যারদের কাছে ঘুরেছি। কোনো ফল পাইনি। তারা বলেছেন, তাদের কাছে কে বলেছে আমি নাকি মারা গেছি। মৃত মানুষের নামে ভাতা হয় না। এ কারণে আমার নাম কেটে দিয়েছে।’

এ ব্যাপারে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিকু মিয়া বলেন, আমার ওয়ার্ডে এ রকম তিনটি ঘটনা ঘটেছে। নুরজাহান ছাড়াও মজিবুর রহমান ও নীল কর্মকার নামের আরও দুজনের একই অবস্থা। উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে এ কাজ করা হয়েছে। তবে কার কথায় তারা এসব করেছেন তা আমার জানা নেই।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, নুরজাহান বেগমের নাম বয়স্ক ভাতার তালিকায় আছে। তবে কী কারণে এমনটি করা হয়েছে তা দ্রুত তদন্ত করে দেখা হবে।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেতী প্রু জাগো নিউজকে বলেন, নুরজাহানসহ বেশ কযেকজনের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। তবে তাদের কিন্তু বয়স্ক ভাতার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। তারা এখনও ভাতার বৈধ তালিকাভুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছেন। তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে সমস্যার কারণে ভাতা বন্ধ আছে। অনলাইনে জাতীয় পরিচয়পত্রে তাদের আনলিস্টেট দেখাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করতে বলা হয়েছে। সংশোধন হয়ে গেলে এ সমস্যা থাকবে না। তখন তারা আবার ভাতা পাবেন। এ বিষয়ে তিনি নিজেও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছেন বলে জানান।

এন কে বি নয়ন/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]