সালিশ নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া
প্রকাশিত: ০১:২৩ পিএম, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১
ফাইল ছবি

বগুড়ায় সালিশ নিয়ে বিরোধের জেরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হওয়া হাসান সরকার (৫০) নামে এক ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে মারা যান তিনি। গত বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসান সরকারকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

নিহত হাসান সরকার বগুড়া পৌর এলাকার পালশা সরকার পাড়ার মৃত সামছু সরকারের ছেলে।

নিহতের ছেলে জাকির সরকার মৃদুল জানান, তার স্বামী পরিত্যাক্তা চাচাতো বোনের সঙ্গে স্থানীয় এক যুবকের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। তাদের আপত্তিকর কিছু ছবি একই এলাকার রুপম নামে এক যুবক হাতে পান। পরে ওই ছবিগুলো বিভিন্ন মানুষের মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেন তিনি।

মৃদুল আরও জানান, তার বোন একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির শো-রুমে চাকরি করতেন। সেখানেও ছবিগুলো পাঠানো হয়। এতে করে তার বোনের চাকরি চলে যায়। পরে এ বিষয়ে তার বাবা হাসান সরকার স্থানীয় পৌর কাউন্সিলরের কাছে নালিশ করেন। কয়েকদিন আগে পৌর কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম এলাকায় সালিশ বসিয়ে রুপমকে দোষী সাব্যস্ত করে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। সালিশ মেনে নিয়ে টাকা পরে দেওয়ার কথা জানান রুপম।

জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভবেরবাজার এলাকায় মেহেরা পাম্পের সামনে জরিমানার টাকা নিয়ে রুপমের সঙ্গে হাসান সরকারের তর্ক বিতর্ক হয়। এরপর হাসান সরকার পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় রুপম ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১৭ সেপ্টেম্বর তাকে ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকালে তিনি মারা যান।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক আব্দুর রশিদ জানান, ঘটনার পর থেকেই রুপম পলাতক আছেন। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এফআরএম/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।