চাকাওয়ালা ছোট ভ্যানেই ৩৮ বছর ধরে শুয়ে রহম আলী

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম
প্রকাশিত: ১০:২৭ এএম, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

কুড়িগ্রামের প্রতিবন্ধী রহম আলী। বয়স ৫২ বছর। এই ৫২ বছরের ৩৮ বছরই তার কেটে গেছে চাকাওয়ালা একটি ছোট্ট ভ্যানে। তিন ফুট লম্বা ভ্যানটিতে কাঠের পাটাতন। পিঁড়ি দিয়ে বানানো হয়েছে বালিশ। সেখানেই শুয়ে জীবনের ৩৮টি বসন্ত পার করেছেন রহম আলী।

নিথর, নিস্তেজ দেহ রহম আলীর। হাত সামান্য নড়াচারা করতে পারলেও পা দুটি অচল। পা দুটি সংকুচিত হয়ে মনে হয় কোমরের সঙ্গে একাকার হয়ে যাচ্ছে। নিস্তেজ রহম আলীকে প্রথম দেখায় অনেকেই মৃত ভেবে ভুল করেন। তবে শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও রহম আলী স্পষ্ট করেই কথা বলতে পারেন।

কুড়িগ্রাম জেলার রাজীবপুর-রৌমারী ডিসি সড়কের চাকতাবাড়ি নামক স্থানে সড়কের একপাশে শুয়ে থাকা অবস্থায় রহম আলীকে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায়। সেখানেই সড়কের পাশে রহম আলীদের ঘর। এ পথে যারা নিয়মিত চলাচল করেন তাদের অনেকেই চেনেন প্রতিবন্ধী এই মানুষটিকে।

রহম আলীর হাতে একটি ছোট কাঠি থাকে, যা দিয়ে তিনি মূলত শরীরে মশা, মাছি বা পতঙ্গ জাতীয় কিছু বসলে তাড়িয়েদেন। অন্যের সাহায্য ছাড়া কোনো কিছুই করতে পারেন না রহম আলী।

রহম আলীর মা-বাবা নেই। দুই বোন সোনাবানু বেগম ও রওশনারা বেগমের সাহায্য নিয়ে জীবনযাপন করছেন।

rohom-1.jpg

সোনাবানু বেগম জানান, রহম আলীর বয়স যখন ১২ বছর, তখন জ্বর হয়। গ্রামের মানুষ বলতেন ‘বাতাস’ লেগেছে। দরিদ্র হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি। স্থানীয়ভাবে কবিরাজি চিকিৎসা এবং ঝাড়ফুঁক করা হয়েছিল। কিন্তু সুস্থ হতে পারেননি। আস্তে আস্তে শরীরের নিচের অংশ অবশ হয়ে যায়।

রহম আলী বলেন, দুই বোনের স্বামীর সংসারে ঠাঁই হয়নি। সড়কে মাটি কেটে জীবিকা নির্বাহ করেন তারা। সামান্য কিছু আয় দিয়ে কোনো রকমে দিনযাপন করছি আমরা। নিজস্ব জমি না থাকায় সড়কের পাশেই ঘর তুলে বসবাস করি।

প্রতিদিন সকালে রহম আলীকে বহনকারী ভ্যানটি সড়কের পাশে রাখা হয়। পথচারীরা তাকে সাহায্য করেন। শ্রমিক দুই বোনের আয়, রহম আলীকে দেওয়া পথচারীর সাহায্য এবং প্রতিবন্ধী হিসেবে তিন মাস পরপর পাওয়া দুই হাজার ১০০ টাকা দিয়েই কোনো রকমে চলছে এই তিন অসহায়ের সংসার।

সরকাীর কোনো সহয়তা পান কিনা জানতে চাইলে রহম আলী বলেন, শুধু প্রতিবন্ধী ভাতা ছাড়া আর তেমন কোনো সাহায্য পাই না।

জীবনের কোনো ইচ্ছে আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কারো সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারি না। যদি নিজে নিজে চলাফেরা করতে পারতাম তাহলে খুব শান্তি পাইতাম।

এ বিষয়ে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, ওই প্রতিবন্ধী ব্যক্তি আবেদন করলে তা যাচাই করে সহায়তার ব্যবস্থা করবো।

মো. মাসুদ রানা/ইএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]