মেছোবাঘের আক্রমণে শিশু-বৃদ্ধসহ আহত ১০

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত: ১১:৩১ এএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

প্রাণীটি দেখতে অনেকটা বিড়ালের মতো। নিমিষেই মানুষকে আক্রমণ করে লাপাত্তা হয়ে যায়। মুহূর্তেই বনের ঝোপে আত্মগোপন করা প্রাণীটির নাম মেছোবাঘ। ওই প্রাণীর ভয়ে একটি গ্রামের মানুষ সন্ধ্যা হওয়ার আগে ছেলেমেয়েদের নিয়ে আতংকে ঘরের দরজা লাগিয়ে দিচ্ছেন। বলছিলাম সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সদরগড় গ্রামের কথা। এরই মধ্যে মেছোবাঘের কামড়ে আহত হয়ে ওই গ্রামের শিশু-বৃদ্ধসহ ১০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহতরা হলেন- ওই গ্রামের মুসলিমা বেগম (১৩), আকিকুল ইসলাম (৪৫), সাকিব হোসেন (৪), রত্মা বেগম (১২), হোসাইন আহমদ (৪), রনি (১৪), জুনাদ (৪), গোলাম মনতাক (৭)।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ওই গ্রামে গত রোববার সকাল থেকে বিভিন্ন সময় মেছোবাঘের আক্রমণে তারা আহত হন। গত তিনদিন সন্ধ্যা হলে রাস্তায় কিংবা বসতঘরে ঢুকে আক্রমণ করে মেছোবাঘ। এ কারণে পুরো গ্রামের মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছেন।

গ্রামবাসীরা জানান, সদরগড় গ্রামে মাছ চাষের একাধিক পুকুর রয়েছে। ছোট বড় গাছও আছে অনেক। গ্রামের পাশে রয়েছে চলতি নদী। গত তিনদিন ধরে এই মেছোবাঘের আক্রমণ শুরু হওয়ায় এলাকার মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েছেন। গত রোববার রাত ৮টায় ওই গ্রামের মাদরাসা শিক্ষার্থী মুসলিমা বেগমকে (১৩) আক্রমণ করে। নিজের বাড়িতে পাশের ঘর থেকে নিজের ঘরে আসার সময় তাকে মেছোবাঘ আক্রমণ করে। ধারালো নক দিয়ে আঁচড় কাটে দুই পায়ের বিভিন্ন স্থানে। পরনের জামা কামড়ে ধরে। তার চিৎকারে এলাকার মানুষ দৌঁড়ে আসলে মেছোবাঘ নিমিষেই লাপাত্তা হয়ে যায়। পরে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সোমবার ভোরে আকিকুল ইসলাম (৪৫), ছেলে সাকিব হোসেন (৪), মেয়ে রত্মা বেগম (১২), গোলাম মনতাক মেছোবাঘের আক্রমণে গুরুতর আহত হন।

মেছোবাঘের আক্রমণে আহত আকিকুল ইসলাম বলেন, সকালে আমার ছেলে সাকিব যখন পাশের রুমে জুতা খুঁজতে যায়, তখন মেছোবাঘ তাকে ঝাপটে ধরে। তার চিৎকারে আমি লাফ দিয়ে মেছোবাঘকে তাড়াতে চেষ্টা করি। সেসময় আমাকেও আক্রমণ করে।এসময় আমার দুই হাতের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয় মেছোবাঘ। আমি অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমার মেয়ে দৌড়ে আসে, তখন তাকেও কামড় দেয়, ধারালো নক দিয়ে আঁচড় দেয় তার পায়ের বিভিন্ন স্থানে। পরে আমাদের পরিবারের সবাইকে সদর হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা।

তিনি আরও বলেন, এরপর হোসাইন আহমদ (৪) নামের আরেক শিশুকে মেছোবাঘ আক্রমণ করে। তার হাত ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে কামড় দেয়। রাতে রনি (১৪) ও জুনাদ (৪) নামের দুইজন মেছোবাঘের কামড়ে আহত হন। এদের সবাইকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী গোলাম মনতাকসহ আরও দুইজন মঙ্গলবার সকালে মেছোবাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন বলে জানান গ্রামের বাসিন্দারা।

সদরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হারুনুর রশিদ বলেন, গ্রামের একাধিক শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তি মেছোবাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন। এই আতংকে গত তিনদিন স্কুলে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কিছুটা কমেছে। এই মেছোবাঘ খুঁজে বের করা না হলে গ্রামবাসীদের আতংক কাটবে না বলে জানান তিনি।

গ্রামের বাসিন্দা তানভীর আহমদ তাছলিম বলেন, মেছোবাঘটি দেখতে বিড়ালের মতো। তবে লাফিয়ে অনেক ওপরে উঠতে পারে। যে কোনো মানুষকে আক্রমণ করে নিমিষেই লাপাত্তা হয়ে যায়। আমরা সন্ধ্যা হওয়ার আগে ভালো করে ঘরের ভেতর দেখে দরজা বন্ধ করে দেই ও সকাল হলে গ্রামের সবাই মিলে মেছোবাঘটি খুঁজতে বের হই।

সুনামগঞ্জের ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার চয়ন ব্রত চৌধুরী বলেন, বন্যার সময় চলতি নদী দিয়ে ভারত থেকে অনেক কিছু আসে। হয়তো এই মেছোবাঘও ঢলের পানিতে ভেসে এসেছে। মেছোবাঘ নিরাপদ স্থান না পাওয়ায় সে যেখানে আশ্রয় নেয়, সেখানকার মানুষকে দেখে হিংস্র আচরণ করে। এটাকে ইংরেজিতে ‘ফিশিং ক্যাট’ বলা হয়। এই প্রাণী দেখতে অনেকটা বিড়ালের মতো, গায়ে ডোরাকাটা। তার খাদ্য মাছ ও মাংস।

তিনি আরও বলেন, গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আমরা বিষয়টি শুনেছি। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবো বলে জানান তিনি।

লিপসন আহমেদ/এআরএ/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]