বছরে ৮ কোটি আয় হলেও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন মোংলা ভূমি অফিসের

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ০৫:৩৭ পিএম, ১৪ অক্টোবর ২০২১

বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রি (ভূমি নিবন্ধন) অফিস ভবনের জরাজীর্ণ অবস্থা। ভবনটির অর্ধেক অংশ মাটির নিচে চলে গেছে। দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। দেয়ালে অসংখ্য ফাটল ও নোনাও ধরেছে। যে কোনো মুহূর্তে ভবনটি ধ্বসে পড়ার আশঙ্কা আছে। এরপরও জীবনর ঝুঁকি নিয়ে সেখানে চলছে অফিসের কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভবনটি ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয়। ১৯৮৬ সাল থেকে ওই ভবনে উপজেলা মুন্সেফ কোর্ট বা আদালত হিসেবে ব্যবহার করা হতো। উপজেলা মুন্সেফ কোর্ট আদালত ব্যবস্থা বিলুপ্ত হলে ১৯৯১ সাল থেকে ভবনটি অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে ওই ভবনেই উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়।

jagonews24

এ অফিসে বর্তমানে ১৭ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী কর্মরত আছেন। ৩১ জন সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক ও প্রায় ২০০ জনের মতো দলিল লেখকের সহকারী আছেন। প্রতিদিন কয়েকশ লোক জমি রেজিস্ট্রি সংক্রান্ত কাজে এ অফিসে যাতায়াত করেন। এছাড়া এ অফিস থেকে বছরে প্রায় ৮ কোটি টাকার রাজস্ব আয় হয়।

জমি দলিল করতে আসা মিঠাখালী গ্রামের খোকন শেখ, চাঁদপাই গ্রামের গোলাম মোড়ল, সাহেবের মেঠ গ্রামের আলমগীর শেখ বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসার জন্য কোনো রাস্তা না থাকায় কাঁদা পানি ডিঙিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রার্থীদের অফিসে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে ভবনটি। যে কোনো সময় ধ্বসে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

দলিল লেখক মুরাদ শেখ, গৌতম রায় বলেন, আমরা অফিসে আসলে সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকি যে, প্রাণ নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবো কি না। এর আগে ভবনের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে সেবাপ্রার্থীসহ অফিসের কয়েকজন আহত হয়েছেন। দ্রুত ভবনটি ভেঙে নতুন আরেকটি ভবন নির্মাণের দাবি জানাই আমরা।

jagonews24

মোংলা দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, প্রতি বছর এ অফিস থেকে প্রায় ৮ কোটি টাকার রাজস্ব সরকারি কোষাগারে জমা হলেও জরাজীর্ণ ভবনটির সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই। ভবনটির অর্ধেক অংশ মাটির নিচে। বর্ষাকালে ভবনটিতে পানি প্রবেশ করে। ফলে রেকর্ডরুমে রক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান দলিলপত্র নষ্ট হয়ে আসছে। দ্রুত সংস্কার করা না হলে ভবনটিতে আর কার্যক্রম চালানো সম্ভব হবে না।

এ ব্যাপারে মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিলে উপজেলা পরিষদ থেকে ভবনের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর খুব দ্রুত এ বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার।

মোংলা উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার জুবায়ের হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, যোগদানের পর কয়েকবার ভবনটি মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পরই আবারও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো প্রতিকার পাননি।

এসিল্যান্ড বদলি হওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কমলেশ মজুমদার জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমরা শোনার পর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কক্ষগুলো সংস্কার করে দেওয়া হয়েছে। আমি যতদূর জানি পরবর্তীতে নতুন করে ভবন করে দেওয়া হবে। খুব দ্রুতই অনুমোদন হয়ে যাবে।

মো. এরশাদ হোসেন রনি/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]