ভরপেট খাবার মেলে ‘মেহমান খানায়’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ঠাকুরগাঁও
প্রকাশিত: ১২:৩৮ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০২১

‘হামরা ভিক্ষুক বারে, একবেলা খাই তো একবেলা না খায়ে থাকি। দিনের খাওয়া যোগাড় করা হামার তানে কষ্টের সেইঠে মাছ-মাংস দিয়া পেট ভরে ভাত খাবা পারিমো এইটা তো স্বপ্নেও ভাবু নাই মুই। কথা বলছিলেন ষাটোর্ধ খদেজা বেওয়া (৬০)। ভিক্ষা করে কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে জীবন কাটছে খদেজার। কোনো একজনের কাছে খবর পেয়ে ‘মেহমান খানায়’ এসেছেন তিনি।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী বাজারের পাশে প্রতি শুক্রবার ‘মেহমান খানার’ আয়োজন করা হয়। উপজেলার আট ইউনিয়নসহ পাশের রাণীশংকৈল ও সদর উপজেলা থেকে ভিক্ষুক, মানসিক ভারসাম্যহীন ও নিম্ন আয়ের মানুষ এখানে একবেলা মাছ-মাংস দিয়ে ভাত খেতে আসেন। শুরুতে উপস্থিতি কম থাকরেও এখন প্রতি শুক্রবার ১৫০-২০০ মানুষ পেট ভরে খেতে আসেন।

স্থানীয় সাংবাদিক হারুন অর রশিদে এ ‘মেহমান খানার’ আয়োজন করেন। ষষ্ঠ সপ্তাহে ২৫০ ও সপ্তম সপ্তাহে প্রায় ৩০০ মানুষ এখানে খেতে আসেন।

jagonews24

এ আয়োজন সম্পর্কে সাংবাদিক হারুন অর রশিদ জানান, দুই মাস আগের কথা। শুক্রবার দুপুরে এক ভিক্ষুক এসে আমার নিকট খাবার চেয়ে বসেন। পাঁচজনের বাড়িতে খাবার চাওয়ার পরও তাকে কেউ খাবার দিতে রাজি হয়নি বলে জানান তিনি। সেদিন মনস্থির করেছিলাম সপ্তাহে অন্তত একবার এমন নিরন্ন মানুষের জন্য একবেলা খাবার আয়োজন করার। স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজে নেমে পড়ি।

তিনি আরও জানান, ফেসবুকে ‘হতভাগা সেন্টার’ নাম দিয়ে নিরন্ন মানুষদের খাবারের আয়োজন করার ঘোষণা দেই। প্রথম শুক্রবার বাজারে আসা ভিক্ষুক, মানসিক ভারসাম্যহীন ও নিন্ম আয়ের মানুষকে একবেলা খাওয়ার জন্য দাওয়াত দিই। প্রথম সপ্তাহে ১১৫ জন এসেছিলেন। এরপর এটার নাম পরিবর্তন করে ‘মেহমান খানা’ রাখা হয়।

jagonews24

হারুন অর রশিদ জানান, ব্যক্তিগত ব্যয়ে গত ছয় সপ্তাহ ‘মেহমান খানা’ পরিচালনা করেছি। ইতোমধ্যে অনেকেই সহযোগিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন এবং অনেকে সহযোগিতা করেছেন।

বালিয়াডাঙ্গী প্রেস ক্লাবের সভাপতি রমজান আলী বলেন, সপ্তাহে ২০০ মানুষকে বিনামূল্যে খাওয়ানোর উদ্যোগ সাহসের। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগটি চালু রাখার জন্য সমাজের বৃত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তানভীর হাসান তানু/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]