মোংলায় বন্ধ বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামার কাজ

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ০৩:১৮ পিএম, ১৯ অক্টোবর ২০২১

টানা বৃষ্টি, বাতাস ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় মোংলা বন্দরের আউটারবার ও ইনারবারে অবস্থানরত ২০টি বিদেশি জাহাজের পণ্য ওঠানামা ও পরিবহনের কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। তবে স্বাভাবিক আছে বন্দর জেটির কন্টেইনার ও কার ইয়ার্ডের কাজ।

মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে মোংলা বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফখরউদ্দীন বলেন, বৃষ্টিতে আজ বন্দরে অবস্থানরত জাহাজের কাজ বন্ধ আছে। তবে জেটিতে কাজ চলছে। আবহাওয়া ভালো হলে আবারো জাহাজের কাজ শুরু হবে।

বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় সোমবার মোংলা সমুদ্রসহ উপকূলীয় এলাকায় তিন নম্বর স্থানীয় সর্তক সংকেত জারি করে আবহাওয়া অফিস, যা আজও বহাল রয়েছে। তবে আগামী ২১ অক্টোবর পর্যন্ত এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় বিরাজমান থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে সিগনাল কমবে না উঠে যাবে তা জানা যাবে মঙ্গলবার বিকেল নাগাদ বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

mon-(1).jpg

মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী মেসার্স নুরু অ্যান্ড সন্সের মালিক এইচ এম দুলাল ও মায়া এন্টারপ্রাইজের মালিক আহসান হাবিব হাসান জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টিতে জাহাজের কাজ বন্ধ থাকায় পণ্য খালাস করে নির্দিষ্ট সময়ে বন্দর ত্যাগ করতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন বিদেশি জাহাজ মালিকরা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শ্রমিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোও। কারণ কাজ বন্ধ থাকায় শ্রমিকদেরকে জাহাজে বসিয়ে বসিয়ে মজুরি দিতে হচ্ছ। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান জাহাজ থেকে শ্রমিক-কর্মচারীদের নামিয়ে আনায় তারা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে চরম বিপাকে পড়েছেন শ্রমিক-কর্মচারীসহ খেটে খাওয়া দিনমজুররা। এছাড়া মোংলার চাঁদপাই, চিলা ও বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ৪৯৫টি চিংড়ির ঘের তলিয়ে গেছে।

উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, সব ইউনিয়নে খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরের সংখ্যা আরও বাড়বে।

mon-(1).jpg

এদিকে বৃষ্টিতে পৌর শহরসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকা জুড়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বাড়িঘর ও পুকুরসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও। উপজেলা পরিষদ চত্বর জুড়ে পানি থৈ থৈ করছে। বৃষ্টি ও জোয়ারে নদী-খাল ভরা থাকায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না।

পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আ. রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বৃষ্টিতে শহরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন। আমরা ড্রেন ও খাল দিয়ে এ পানি নামানোর চেষ্টা করছি।

মো. এরশাদ হোসেন রনি/এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]