প্রবাসী স্বামীকে ডিভোর্স দিয়েছিলেন, এখন আবার ফিরতে অবস্থান নারীর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ০৮:০৩ পিএম, ২২ অক্টোবর ২০২১

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে মোবাইল ফোনে দুই বিয়ে করে আলোচনায় এসেছেন সৌদি প্রবাসী হৃদয় মিয়া (২৪) নামের এক যুবক। তিনি উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। বিয়ের এক মাস ১৬ দিন পর স্ত্রীর সঙ্গে তার ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। সম্প্রতি দেশে ফিরে আসার খবরে শুনে ছয়দিন ধরে সাবেক স্বামীর বাড়িতে অবস্থান করছেন সাবেক স্ত্রী। বিষয়টি ধর্মীয় আচরণবর্হিভূত হওয়ায় এলাকায় অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গয়হাটা ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে মো. হৃদয় মিয়া। পরিবারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে তিন বছর আগে সৌদি যান। প্রবাসে থাকা অবস্থায় তার বাবা একই গ্রামের আব্দুল সালামের মেয়ের সঙ্গে বিয়ে ঠিক করেন। দুই বছর আগে পাঁচ লাখ টাকা কাবিনে মোবাইল ফোনে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রায় দেড় মাস শ্বশুরবাড়িতে থাকেন ওই তরুণী। পরে বাবা ও ভাইয়ের প্ররোচনায় হৃদয়কে তালাক দেন।

এরপর ছেলের জন্য আবার মেয়ে দেখা শুরু করেন হৃদয়ের বাবা-মা। উপজেলার গয়হাটা ইউনিয়নের আগতগয়হাটা গ্রামে প্রবাসে থাকা অবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন হৃদয়। এ বিয়েও হয় মোবাইল ফোনে। তবে হৃদয়ের দেশে আসার খবর শুনে প্রথম স্ত্রীকে ফের শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে তার পরিবার। ওই তরুণী আবার হৃদয়কে বিয়ে করতে চান। গত ছয়দিন ধরে তিনি শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন।

এদিকে আগতগয়হাটার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা-মা ঘটনা জানতে পেরে ওই তরুণীকে তার পরিবারে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা কায়কোবাদ বলেন, গত বৃহস্পতিবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে আসেন হৃদয়। সংবাদ পেয়ে বিবাহবিচ্ছেদের পরও প্রথম স্ত্রী ছয়দিন ধরে হৃদয়ের বাড়িতে অবস্থান করছে। বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় সালিশ বসছে।

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক হাকিম মাস্টার জাগো নিউজকে বলেন, আগে বা পরের বিয়ের বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। তবে এখন গ্রামে দলে দলে লোকজন আসায় বিষয়টি জানতে পেরেছি। সামাজিকতা নষ্ট হওয়ার শঙ্কায় ছেলের বাবা আবু বক্কর সিদ্দিককে দ্রুত বিষয়টি মীমাংসার জন্য বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে রোববার (২৪ অক্টোবর) সালিশ বসবে।

হৃদয়ের বাবা মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জাগো নিউজকে বলেন, ছেলের দুই বউয়ের পরিবারের চাপে আছি। সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে।

মোবাইল ফোন ব্যবহার না করায় প্রথম স্ত্রীর বাবা সালামের বক্তব্য নেওয়া যায়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করেও দ্বিতীয় স্ত্রীর পরিবারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি অবগত নন বলে জানিয়েছেন গয়হাটা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান আসকর।

নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হবে।

আরিফ উর রহমান টগর/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]