দুই যুগ আ’লীগের পদে, নৌকা পাওয়ার পর ‘রাজাকারপুত্র’!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ২৪ অক্টোবর ২০২১

দুই যুগ ধরে ইউনিয়ন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের পদে দায়িত্ব পালন করেছেন বিল্লাল হোসেন। সত্তরের দশকে ছাত্রলীগের রাজনীতি শুরু। পরবর্তী সময়ে যুবলীগের নেতা ছিলেন। চার দশক ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের একাংশ বিল্লাল হোসেনকে ‘রাজাকারপুত্র’ আখ্যায়িত করে মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন।

রোববার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড পৃথকভাবে এ মানববন্ধন করে। একই দাবিতে শনিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বাঘারপাড়ার রায়পুর বাজারে মানববন্ধন করেন তার প্রতিপক্ষরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শান্তি কমিটির স্থানীয় সভাপতি মোহাম্মদ আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন। তার বড়ভাই শাহাদৎ হোসেনও চিহ্নিত রাজাকার। আমরা চাই না কোনো রাজাকারের সন্তান জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হোক। এরা জনপ্রতিনিধি হলে বাঙালি জাতির জন্য হবে কলঙ্কজনক। এ কারণে আমরা চাই বিল্লালের দলীয় মনোনয়ন বাতিল করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণকারী নতুন কাউকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হোক।

মানববন্ধনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী, আব্দুস সালেক মাস্টার ও মোসলেম উদ্দিন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডে রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বিল্লাল হোসেন। ওনার বাবা কুখ্যাত রাজাকার মোহাম্মদ আলী। তারা সপরিবারেই রাজাকার ছিল। উপজেলা কমিটি থেকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকায় বিল্লাল হোসেনকে ‘রাজাকারের ছেলে’ বলে সুপারিশও করা হয়েছিল। তারপরও স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড তাকে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। স্বাধীনতাযুদ্ধে বিরোধিতাকারীদের জনপ্রতিনিধি করার সুযোগ দিচ্ছে, তাও মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিরা। এটা খুবই লজ্জাজনক।

অভিযোগ প্রসঙ্গে নৌকার প্রার্থী বিল্লাল হোসেন বলেন, আমার বাবা রাজাকার কিংবা শান্তি কমিটির কোনো সদস্য ছিলেন না। এ-সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণও কেউ দিতে পারবেন না। রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতে মিথ্যাচার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমি ১৯৮৭ সালে মাগুরার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। এরপর ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ১৯৯৬ সালে রায়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির ১৬ নম্বর সদস্য পদ লাভ করি। ২০০৪ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত টানা ১৫ বছর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতেও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছি। ১৯৮৮ সালে বঙ্গসেনা তালিকায় ২২ মাস ডিটেনশন (কারাবন্দি) খেটেছি। বিএনপির শাসন আমলে রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমি আদি আওয়ামী পরিবারের সন্তান। আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা হিসেবে দল আমাকে মূল্যায়ন করেছে। মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে একটি পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে।

মিলন রহমান/এসআর/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]