১ নভেম্বর শুরু হচ্ছে দুবলার চরের শুঁটকি মৌসুম

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি মোংলা (বাগেরহাট)
প্রকাশিত: ০৯:২৪ পিএম, ২৫ অক্টোবর ২০২১

বঙ্গোপসাগরের পাড়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে আগামী ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শুঁটকি মৌসুম। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত উপকূলের জেলে-মহাজনরা। সাগরে যেতে যে যার মতো প্রস্তুত করেছেন জাল, দড়ি, নৌকা-ট্রলার। কেউ কেউ তৈরি করেছেন নতুন ট্রলার, আবার কেউ মেরামত করেছেন পুরোনোটি।

এরই মধ্যে অনেকে চলে এসেছেন মোংলার পশুর নদীতে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বনবিভাগের পাস নিয়েই তারা রওয়ানা হবেন সাগর পাড়ের দুবলার চরে। সাগরে এখন দস্যুদের উৎপাত না থাকলেও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের শঙ্কা ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি মাথায় নিয়েই দুবলায় যাত্রা শুরু করবেন ১০ হাজার জেলে।

jagonews24

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুঁটকি মৌসুমে টানা পাঁচ মাস দুবলার চরে থাকতে হয় জেলেদের। তাই সাগর পাড়ে গড়তে হয় তাদের অস্থায়ী থাকার ঘর, মাছ শুকানোর চাতাল ও মাচা। তবে সেসব তৈরিতে ব্যবহার করা যাবে না সুন্দরবনের কোনো গাছপালা-লতাপাতা। তাই বনবিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী চরের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নেওয়া জেলেরা তাদের ট্রলারে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন প্রয়োজনীয় সামগ্রী। এসব প্রস্তুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মোংলাসহ উপকূলের কয়েক জেলার জেলে-মহাজনরা।

দুবলার চরে যাওয়ার পথে সুন্দরবনের কোনো নদী-খালে প্রবেশ ও অবস্থান করতে পারবেন না সমুদ্রগামী এ জেলেরা। এছাড়া চরে অবস্থানকালে সাগর ছাড়া সুন্দরবনের খালে প্রবেশ ও সেখানে মাছ ধরতে পারবেন না বলেও জানিয়েছে বনবিভাগ।

jagonews24

জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতির মোংলা শাখার সভাপতি বিদ্যুৎ মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল শেখ জাগো নিউজকে বলেন, এবার দুবলার চরে শুঁটকি করতে মোংলার আড়াই থেকে তিনশ ট্রলার যাচ্ছে। ঘর-মাচা করতে ওইসব ট্রলারে জেলেরা সব ধরনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যাবে। বনবিভাগের কাছ থেকে পাশ নিয়ে মঙ্গলবার থেকে তারা সাগরে যেতে শুরু করবেন।

দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের নেতা কামাল উদ্দিন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, বঙ্গোপসাগর ও সুন্দরবনে এখন আর দস্যুতার ভয় নেই। তাই অনেকটা স্বস্তি নিয়েই সাগরে যাবেন জেলেরা। আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভের পাল্লা ভারি করেই মৌসুম শেষে বাড়িতে ফিরতে পারবেন উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকার জেলে-মহাজনরা।

jagonews24

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, শুঁটকি মৌসুমকে ঘিরে এবারও উপকূলের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০ হাজার জেলে সমবেত হবেন দুবলার চরে। এ মৌসুমেও দুবলার চরে যাচ্ছে প্রায় দেড় হাজার মাছ ধরার ট্রলার। ট্রলার নিয়ে গভীর সাগর থেকে আহরিত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বাছাই করে শুঁটকি করবেন তারা। এ বছরও চরে জেলেদের থাকা ও শুঁটকি সংরক্ষণের জন্য সাড়ে ৯৫০-৯৬০টির বেশি ঘর এবং ৫০-৫২টি ডিপো স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। দুবলার চরে জেলেদের নিরাপত্তায় বনবিভাগের পাশাপাশি থাকছে র্যাব ও কোস্ট গার্ড।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, গত শুঁটকির মৌসুমে দুবলার চর থেকে বনবিভাগের রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৩ কোটি ২২ লাখ টাকা। এবারও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সমপরিমাণ কিংবা তার চেয়েও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

মো. এরশাদ হোসেন রনি/রাজিব হাসান/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]