শায়েস্তাগঞ্জে কমিউনিটি ক্লিনিকের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চিকিৎসা

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ২৭ অক্টোবর ২০২১

জনাকীর্ণ ভবনের বেশ কয়েক জায়গায় ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলেই ছাদ বেয়ে পড়ে পানি। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। ভেতরে শৌচাগার থাকলেও নেই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। ভেঙে আছে পানির ট্যাংকি। টিউবওয়েল থাকলেও আসে না পানি।

এমন নানা সমস্যায় জর্জরিত হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার নুরপুর ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকটির। ফলে যে কোনো সময় ভবন ভেঙে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সেবা নিতে আসা রোগী ও ক্লিনিকের সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০০ সালে পাঁচ শতক জায়গার ওপর নির্মিত হয়েছিল নুরপুর কমিউনিটি ক্লিনিক। নুরপুর ইউনিয়নের নসরতপুর, নুরপুর, নোয়াহাটি, চন্ডিপুর, বারলাইরা, শ্রীরামপুরসহ ছয়টি গ্রামের চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ক্লিনিকটি। এ ছয়টি গ্রামের ৫-৬ হাজার মানুষ নানা অসুস্থতায় চিকিৎসার জন্য এখানেই আসেন। করোনাকালে যখন সর্দি-জ্বর কাশি নিয়ে মানুষজন ডাক্তার ও চিকিৎসা সংকটে ভুগছিল, তখন কমিউনিটি ক্লিনিকটি অত্র অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

jagonews24

নুরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে মোট তিনজন কর্মরত আছেন। এতো মানুষের সেবা দিতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন তারা।

চিকিৎসা নিতে আসা নুরপুর গ্রামের মিনারা বেগম বলেন, পুরো পরিবারের অসুখ হলে এ ক্লিনিকেই আসি। তবে ক্লিনিকের যে অবস্থা যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে ক্লিনিকে আসতে গেলে দরজায় পানি লেগে থাকে। আমাদের আসা যাওয়া করতে সমস্যা হয়।

নুরপুর ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সি এইচ সি পি) মোছা. মাহমুদা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, বিগত দুবছর ধরেই আমরা এ ভবনে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে আসছি। বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষজন ওষুধ নিতে আসেন, আমরা সবাইকেই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে থাকি। এ ক্লিনিকের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে, কখন যে ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটে তার ঠিক নেই। ক্লিনিকটি সংস্কারের জন্য অফিসিয়ালভাবে কয়েকদফা লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, আবেদনের পর এ বছরও একাধিকবার তদন্ত টিম এসে ক্লিনিক পরিদর্শন করে গেছে। কিন্তু ঠিক কী কারণে সংস্কার হচ্ছে না, কিংবা ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করা হচ্ছে না এটা কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারেন।

ক্লিনিকের সিজি গ্রুপের সদস্য শাখাওয়াত হোসেন টিটু জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের অঞ্চলের হাজারো মানুষের চিকিৎসা কেন্দ্র এই ক্লিনিক, কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন ক্লিনিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও কর্মীরা। ঝুঁকিতে আছেন চিকিৎসা নিতে আসা মানুষজনও।
আমি ক্লিনিকটি ভেঙে পুনর্নির্মাণের দাবি জানাই।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, আমার অধীনে ২৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক আছে। এরই মধ্যে যেসব কমিউনিটি ক্লিনিকের পুনর্নির্মাণ করা দরকার এবং যেগুলো সংস্কার করা দরকার সেগুলোর তালিকা কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে। এ তালিকায় নুরপুর কমিউনিটি ক্লিনিকটিও আছে। আমি আশা করছি খুব শিগগির এটির উন্নয়ন কাজের অনুমোদন হবে।

কামরুজ্জামান আল রিয়াদ/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]