নওগাঁ হাসপাতালে রিপ্রেজেনটেটিভদের রোষানলে দুই সাংবাদিক

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ২৮ অক্টোবর ২০২১

নওগাঁ সদর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের (রিপ্রেজেনটেটিভ) অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে তাদের রোষানলে পড়েছেন দুই সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

লাঞ্ছনার শিকার দুই সাংবাদিক হলেন-বৈশাখী টেলিভিশনের নওগাঁ সংবাদদাতা এবাদুল হক এবং দৈনিক বণিক বার্তার নওগাঁ প্রতিনিধি আরমান হোসেন রুমন।

নওগাঁ হাসপাতাল সূত্র ও রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে লেখা ওষুধ হাসপাতাল থেকেই দেওয়ার বিধান রয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার ওষুধ হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছে। যেখানে সকল ধরনের ওষুধ মজুত রয়েছে। তারপরও অনেক চিকিৎসক বহির্বিভাগে আসা রোগীদের ব্যবস্থাপত্রে বিভিন্ন কোম্পানির ওষুধ লেখেন। চিকিৎসকের কক্ষে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দীর্ঘক্ষণ বসে থেকে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে তাদের কোম্পানির ওষুধ লিখে নেন। এতে প্রতিদিন প্রায় ১২০০-১৫০০ হতদরিদ্র সেবাপ্রত্যাশী রোগীরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক।

প্রত্যক্ষদর্শী রশিদ, ফয়সাল এবং মেজবাহ বলেন, ‌‘একটি কোম্পানির এক প্রতিনিধি অন্যান্য প্রতিনিধিদের নিয়ে দলবন্ধভাবে হাসপাতাল চত্বরে টিকিট কাউন্টারের সামনে অবস্থান করছিলেন। পরে দেখলাম দুজন সাংবাদিক ক্যামেরা স্ট্যান্ড নিয়ে বের হওয়া মাত্রই তাদের ঘেরাও করেন তারা। ধাক্কাধাক্কি, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং হুমকি দিয়ে হাসপাতাল থেকে চলে যান তারা।

jagonews24

চিকিৎসকের কক্ষের ভেতরে দাঁড়িয়ে রোগীর ব্যবস্থাপত্রে নিজ কোম্পানির ওষুধের নাম লেখার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন একটি কোম্পানির প্রতিনিধি

লাঞ্ছিত হওয়া দুই সাংবাদিক বলেন, চিকিৎসক-রিপ্রেজেনটেটিভ সম্পর্কে রোগীদের ভোগান্তি নিয়ে একটি প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করতে আমরা হাসপাতালে গিয়েছিলাম। শিশু বিভাগে চিকিৎসকের কক্ষের ভেতরে তখন একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেখছিলেন। আমরা মোবাইলে এ ছবি তুললে তিনি সেখান থেকে দ্রুত সরে পড়েন এবং বাইরে দলবদ্ধভাবে অবস্থান নেন। কিছুক্ষণ পর তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় থেকে বের হয়ে হাসপাতালের বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টারের সামনে এলে তারা আমাদের ওপর সংঘবদ্ধ আক্রমণের চেষ্টা চালান।

ওই ওষুধ কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার শফিক বলেন, বিষয়টা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছাড়া আর কিছুই না। উত্তেজিত মুহূর্তে সাংবাদিকদের মোবাইলের অডিও রেকর্ড করতে নিষেধ করা হয়। ওই দুই সাংবাদিককে যখন ঘেরাও করা হয় তখন আমি নিজেও উপস্থিত ছিলাম। ওখানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো অসদাচরণ করা হয়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ইব্নে ইমাম বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকরা আসতেই পারেন। তবে তাদের ওপর রিপ্রেজেনটেটিভরা কখনোই হামলা করতে পারেন না। বিষয়টি জানার পর তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে (আরএমও) লিখিতপত্র দেওয়া হয়েছে।

নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই সাংবাদিকরা বিষয়টি জানিয়েছেন। এটা যেহেতু হাসপাতালের মধ্যে হয়েছে তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের আলোচনা করতে বলা হয়েছে।

আব্বাস আলী/এসআর

 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]