নোয়াখালীতে অগ্নিকাণ্ডে ১২ বসতঘর-দোকান পুড়ে ছাই

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী
প্রকাশিত: ০১:৪৮ পিএম, ০১ নভেম্বর ২০২১

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটে অগ্নিকাণ্ডে দুটি বসতঘরসহ ১০ দোকান পুড়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

সোমবার (১ নভেম্বর) ভোর তিনটা থেকে চারটার মধ্যে কোম্পানীগঞ্জের সিরাজপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদনগরে ও কবিরহাটের কোম্পানীরহাটে এ ঘটনা ঘটে।

খরব পেয়ে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাটের ফায়ার সার্ভির গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আানে। তার আগে কবিরহাটের কোম্পানীর হাটে নয়টি দোকান পুড়ে প্রায় আশি লাখ টাকা ও কোম্পানীগঞ্জের মোহাম্মদনগরের মানিকপুর স্কুল সংলগ্ন একটি দোকান ও দুটি বসতঘর পুড়ে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

মোহাম্মদনগরের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিক মো. নুরনবী (৫৫) জানান, প্রথমে দোকানে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে তা ছড়িয়ে বসতঘর ও রান্নাঘরও পুড়ে যায়। এতে তার ছেলে আবদুল্লাহ আল নাহিদের (২৪) বিদেশ যাওয়ার জন্য ঘরে রাখা এক লাখ বিশ হাজার টাকাসহ ঘরের সব মালামাল পুড়ে কমপক্ষে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

অন্যরকম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিক মো. নুরুল আলম হেলাল জানান, ভোরে আগুনের খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন দাউ দাউ করে জ্বলছে দোকান। এতে তার অন্তত ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. জামিন মিয়া জাগো নিউজকে জানান, ভোর চারটা ৩৫ মিনিটে খরব পেয়ে মোহাম্মদপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানো হয়। ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।

কবিরহাট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. নুর আলম জাগো নিউজকে বলেন, সোয়া ৩টার দিকে খবর পেয়ে কোম্পানীর হাটে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে নয়টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো হচ্ছে, হাজী মাহবুবুর রহমান বাবুলের ইলেকট্রিক ও হার্ডওয়্যার, মো. শাহাদাত হোসেনের কোকারিজ, এমরান হোসেন ফরহাদের ফার্মেসী, সাহাব উদ্দিনের ফল ও কসমেটিকস, মিজানুর রহমানের টেলিকম, কামাল হোসেনের ফল ও কসমেটিকস, মো. হারুনের টেলিকম ও ইলেক্ট্রনিক, বোরহান উদ্দিনের ফার্মেসি ও আলাউদ্দিনের চায়ের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

মোহাম্মদনগরের স্থানীয় অধিবাসী সাইফুল আজম জাগো নিউজকে জানান, নগদ এক লাখ বিশ হাজার টাকার আংশিক পুড়ে যাওয়া বান্ডিলটি আমরা সংরক্ষণ করেছি। আগুনে দোকান ও বসতবাড়ির কোনো মালামালই রক্ষা করা যায়নি।

সিরাজপুরের সমাজসেবক মো. আবুল হাশেম জাগো নিউজকে জানান, অবস্থা দেখে মনে হয় কেউ শত্রুতার করে আগুন লাগিয়েছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।