ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বী ভাই
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হয়েছেন দুই ভাই। একজন আওয়ামী লীগের, অন্যজন ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী। দুজনই চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে চাইছেন ভোট। ভোটের মাঠে কেউই কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। দুই ভাইয়ের ভোটযুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আব্দুল লতিফ বকুল নৌকা প্রতীক এবং তার বড় ভাই শহীদ হাসান সিদ্দিকী স্বপন হাতুড়ি প্রতীকে প্রচারণা চালাচ্ছেন। ১১ নভেম্বর ওই ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বক্তারপুর ইউনিয়ন ঘুরে জানা যায়, ভোটযুদ্ধে দুই ভাইয়ের লড়াই ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ভোটারদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার যেন কমতি নেই। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলছে প্রচার-প্রচারণা। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রতিশ্রুতি।
ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রাম, পাড়ামহল্লা, হাটবাজারসহ সবখানেই ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন কর্মীরা। শুধু দলীয় বিবেচনায় নয়, ব্যক্তি পরিচয়ে প্রার্থীই ভোট পাবেন বলে মনে করছেন ভোটাররা।
দুই ভাই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় দ্বিধায় পড়েছেন প্রার্থীদের স্বজনরা। এখন দেখার বিষয় ১১ নভেম্বর কার গলায় উঠবে বিজয়ের মালা। তবে দুই ভাইয়ের প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে তৃতীয় পক্ষ ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নাজমুল হুদা জুয়েল বিজয়ী হতে পারেন বলেও মনে করছেন ভোটাররা। এর আগে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।
এছাড়া এই ইউনিয়ন থেকে আনারস প্রতীকে সারোয়ার কামাল চঞ্চল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আব্দুল মুমিন।

ভোটাররা মনে করেন, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। সে ভাই হোক আর যেই হোক। ভোটারদের কাছে যার গ্রহণযোগ্যতা পাবে তিনিই নির্বাচিত হবেন। তবে অ্যাডভোকেট শহীদ হাসান সিদ্দিকী স্বপন, আব্দুল লতিফ বকুল এবং নাজমুল হুদা জুয়েলের মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।
জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল লতিফ বকুল বলেন, রাজনীতি, নির্বাচন, ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সম্পর্ক আলাদা বিষয়। দল মনোনয়ন দিয়েছে। আমি নৌকার মাঝি হিসেবে নির্বাচনী মাঠে লড়ছি। আশা করছি ইউনিয়নবাসী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে আমাকে জয়যুক্ত করবেন। বিজয়ী হলে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়ন কাজ করবো।
বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদ হাসান সিদ্দিকী স্বপন বলেন, ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলাম। আমি স্বতন্ত্রপ্রাথী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। চেয়ারম্যান থাকা অবস্থায় সে সময় ইউনিয়নবাসীর সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছিলাম। সে ধারাবাহিকতায় আমি আশাবাদী ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও পূর্ণ সমর্থন পাবো। নির্বাচনে জনগণ আমাকে তাদের ভোট দিয়ে জয়ী করবেন বলে বিশ্বাস করি।
তিনি আরও বলেন, আমার ছোট ভাই নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছে। সে তার দলের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে লড়ছে। ভোটের মাঠে দেখা যাবে কার জনপ্রিয়তা বেশি এবং বিজয়ের মালা কার গলায় ওঠে।
আব্বাস আলী/এসজে/জিকেএস