প্রকাশ্যে সিল মারার ভিডিও ধারণ, সাংবাদিকের ওপর হামলা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৫:১০ পিএম, ১১ নভেম্বর ২০২১

শরীয়তপুর সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে সিল মারার ভিডিও ধারণ করায় সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। আহত অবস্থায় তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি কেন্দ্রের সামনের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক বি এম ইশ্রাফিল ডিবিসি টেলিভিশনের শরীয়তপুর প্রতিনিধি।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, তুলাসার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছিল। তখন ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী মেম্বার প্রার্থী (বই প্রতীক) জিয়াসমিন বেগমের দেবর ও তার সমর্থকরা প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সামনে প্রকাশ্যে নৌকা ও বই মার্কায় সিল (জাল ভোট) দিচ্ছিলেন। এ সময় ডিবিসির সাংবাদিক বি.এম ইশ্রাফিল ভিডিও ধারণ করছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নৌকা ও বই মার্কার সমর্থকরা তার ওপর হামলা করেন। সঙ্গে থাকা অন্য সাংবাদিকদেরও ধাক্কা মারে ও মোবাইল ক্যামেরা ভাঙচুর করে তারা। আহত অবস্থায় ইশ্রাফিলকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত সাংবাদিক বি এম ইশ্রাফিল বলেন, আমি একজন সাংবাদিক হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। তখন বই প্রতীকের প্রার্থী জিয়াসমিন বেগমের দেবর ও তার সমর্থকরা প্রকাশ্যে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার সামনে নৌকা ও বই মার্কায় সিল মারছিলেন। আমি এর ভিডিও ধারণ করি। ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর তারা হামলা চালায়। সঙ্গে থাকা অন্য সাংবাদিকরা আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আমি থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।

হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবিকুন নাহার জানান, তার মাথায় আঘাত আছে। এ কারণে ভর্তি দিয়েছি। তবে বমি হলে বড় ধরনের সমস্যা হতো।

প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীকে সিল মারা ও সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা শামীম মাহবুব বলেন, ভোট চলাকালে পোলিং এজেন্টদের সঙ্গে সাংবাদিকরা তর্কে জড়ায়। এতে অপ্রীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

শরীয়তপুর ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রোকনুজ্জামান পারভেজ বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক ইশ্রাফিলের ওপর হামলা চালায়। এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। দোষীদের আটক করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার (ওসি) মোহাম্মদ আক্তার হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি দুঃখজনক। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছ থেকে জানবো। পরে তদন্ত করে দেখবো।

মো. ছগির হোসেন/এসজে

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।