এখনো আঁতকে ওঠেন সিডরে স্বজন হারানো মানুষ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ১২:৪৮ পিএম, ১৫ নভেম্বর ২০২১

স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রাতে ঘরে অবস্থান করছিলেন আবদুস সাত্তার। ঠিক তখনই সুপার সাইক্লোন সিডর আঘাত হানে উপকূলে। চোখের সামনে স্ত্রী সাফিয়া বেগম, মেয়ে পারভিন আক্তার, পুত্রবধূ নাজমা আক্তার এবং পারভেজ ও বেল্লাল নামের দুই নাতিকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ভয়াল জলোচ্ছ্বাস। ঘটনার তিনদিন পর দুই মাইল দূরে একটি পুকুর থেকে স্ত্রী ও দুই নাতির মরদেহ, ১০ দিন পর পুত্রবধূ ও ২০ দিন পর মেয়ের মরদেহ পান বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার।

ঘটনাটি ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের। বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের আবদুস সাত্তারের মতো সেদিন অনেকেই হারিয়েছেন তার স্বজনদের। একই ইউনিয়নের নিশানবাড়ীয়া গ্রামের বুলবুলি বেগম হারিয়েছেন স্বামী-সন্তানসহ পরিবারের ৯ সদস্যকে।

সেদিন রাতে সপরিবারে ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন রেহেনা বেগম। তিনি বলেন, রাতে হঠাৎ ঘরের একটি খুঁটি ভেঙে পড়ে। পরে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ঘরের একটি চালা এসে স্বামীর গায়ে পড়ে। তাকে উদ্ধার করতে গেলে পুরো চালা উড়ে যায়। পরে আমরা হাসপাতাল ভবনে যাওয়ার সময় আমার স্বামীর হাত থেকে মেয়ে ছুটে যায়। তিনদিন পর পাশের গ্রামে তার মৃতদেহ খুঁজে পাই।

এখনো আঁতকে ওঠেন সিডরে স্বজন হারানো মানুষ

উপজেলার নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম মাহফুজ বলেন, সিডরের সময় নলটোনা-নিশানবাড়ীয়া বাঁধের ৫ কিলোমিটার অংশ ভাঙা ছিলো। নলটোনা, গর্জনবুনিয়া অঞ্চলটা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ অঞ্চলে সরাসরি পানি প্রবেশ করেছিল। পানির উচ্চতা ১৫-১৮ ফুট ছিলো। এতো গতি ছিলো যে ঘরবাড়ি তুলার মতো ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, সিডরের ক্ষত এ অঞ্চলের মানুষ এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে এখন আমাদের অনেক সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্যোগ প্রশমনে ও ব্যবস্থাপনায় এখন বিশ্বে একটি রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে বাংলাদেশ। দুর্যোগ মোকাবিলায় বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠন রয়েছে।

এখনো আঁতকে ওঠেন সিডরে স্বজন হারানো মানুষ

তিনি আরও বলেন, এ অঞ্চলের বেশকিছু বেড়িবাঁধ আইলা, আম্ফান, বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলোও মেরামতের জন্য তালিকা করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সরকারি হিসেবে সিডরে বরগুনায় মারা গেছেন এক হাজার ৩৩৫ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে সে সংখ্যা দুই হাজারের বেশি। এছাড়া এখনও সন্ধান মেলেনি প্রায় ৩ শতাধিক মানুষের। এ জেলায় সরকারি হিসেবে দুই লাখ ১৭ হাজার ২১৯ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ক্ষতির তালিকা করা হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে তা প্রায় চার লাখ।

আরএইচ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।