সেই বাবা-ছেলের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন, জানা যায়নি মৃত্যুর কারণ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৩:৪৫ পিএম, ১৯ নভেম্বর ২০২১

নেত্রকোনার একটি বাসা থেকে বাবা-ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে মরদেহ দুটির ময়নাতদন্ত করেন হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা শ্রদ্ধানন্দ নাথ এবং টিটু রায়।

চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুজনের কারোরই মৃত্যুর কারণ এখনো আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তাদের মৃত্যুর বিষয়টি স্পষ্ট না হওয়ায় দুজনরই ভিসারা সংগ্রহ করা হয়েছে।’

এদিকে, শিশুটির মা ছালমা খাতুনকে (২১) থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে তাকে পুলিশ হেফাজতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘ছালমা খাতুনকে থানায় রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তার কাছ থেকে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।’

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় শহরের নাগড়া এলাকার একটি ভবনের চারতলা থেকে আবদুল কাইয়ুম সরদার (৩২) ও তার দুই বছরের ছেলে আহনাব শাকিলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবদুল কাইয়ুম সরদারের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার গোপালের খামার গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের আক্কাস সরদারের ছেলে। তিনি নেত্রকোনায় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি করতেন। নেত্রকোনা শহরের নাগড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় স্ত্রী-সন্তানসহ বাস করতেন আবদুল কাইয়ুম।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, আবদুল কাইয়ুম সরদার ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ফকিরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আসাদ আলীর মেয়ে ছালমা খাতুনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে কাইয়ুম সরদার স্ত্রীকে নিয়ে তার কর্মস্থল নেত্রকোনায় বসবাস করছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তাদের ছেলের জন্ম হয়।

এক বছর ধরে নাগড়া এলাকায় রহুল আমিন নামের এক ব্যক্তির বাসার পাঁচতলা বাসার চারতলার ডি-৩ ইউনিট ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন কাইয়ুম সরদার। ভবনটির মালিক রহুল আমিনের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। বৃহস্পতিবার সকালে কাইয়ুম ও তার দুই বছরের শিশুর মৃত্যুর খবর শুনে পুলিশ মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

আবদুল কাইয়ুমের স্ত্রী ছালমা খাতুনের ভাষ্যমতে, প্রতিদিনের মতো বুধবার (১৭ নভেম্বর) রাতে খাবার খেয়ে তারা এক বিছানায় ঘুমিয়ে পড়েন। বৃহস্পতিবার ভোর পাঁচটায় জেগে উঠে পাশের কক্ষে একটি ফ্যানের সঙ্গে স্বামী ও সন্তানের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি রশি কেটে নিজেই মরদেহ দুটি নামিয়ে ফেলেন। এরপর বাসার দরজা খুলে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।

নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, ‘বিষয়টি আমরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। আশা করা যাচ্ছে খুব দ্রুত রহস্যের জট খুলবে।’

এইচ এম কামাল/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।