ক্ষেতে পানি দেওয়া নিয়ে বিতণ্ডা, লাঠির আঘাতে প্রাণ গেলো ভাইয়ের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নেত্রকোনা
প্রকাশিত: ০৩:৩৭ পিএম, ২০ নভেম্বর ২০২১

নেত্রকোনার বারহাট্টায় বোরো ক্ষেতে পানি দেওয়া নিয়ে বাগবিতণ্ডায় বড় ভাইয়ের বাঁশের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত পলাশ মিয়া (২৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের গোরাউন্দ গ্রামের রব আলী তালুকদারের ছেলে। অভিযুক্ত হলেন আল আমিন। তারা সম্পর্কে সৎ ভাই।

স্থানীয়রা জানান, আল আমিন (৪০) ও পলাশ মিয়া একই বাড়িতে তারা পৃথকভাবে বসবাস করেন। বোরো ক্ষেতে পানি দেওয়ার জন্য শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে তাদের বাড়ির সামনে ইঞ্জিন চালিত শ্যালো মেশিন বসানো হয়।

এ সময় পলাশ মিয়া তার ক্ষেতে আগে পানি দিতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে বাড়ির সামনে উঠানে ভাইদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে আল আমিন উত্তেজিত হয়ে পলাশকে বাঁশের লম্বা লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে পলাশ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই হাসপাতাল থেকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢামেকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত পলাশের আরেক ভাই পিতাস মিয়া (২০) বলেন, আমরা মোট পাঁচ ভাই। এক মায়ের গর্ভের চার ভাই। আর আল আমিন সবার বড়। শুক্রবার ক্ষেতে পানি দেওয়াকে কেন্দ্র করে আল আমিন আমাদের সঙ্গে ঝগড়া লেগে পলাশকে মাথায় বাঁশ দিয়ে আঘাত করে মেলে ফেলেছে। আমি তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এদিকে, ঘটনার পর থেকে আল আমিন পলাতক আছেন। তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ নিয়ে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

এইচ এম কামাল/এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।