ঘুস-তদবির ছাড়াই পুলিশে চাকরি পেলেন জয়পুরহাটের ১৯ জন

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০১:২৪ এএম, ২৫ নভেম্বর ২০২১

মাত্র ১০৩ টাকা করে খরচে স্বপ্ন পূরণ হলো জয়পুরহাটের ১৯ তরুণ তরুণীর। কোনো রকম ঘুস বা তদবির ছাড়াই পুলিশে চাকরি হয়েছে তাদের। মূল্যায়ন হয়েছে মেধা ও যোগ্যতার।

তাদেরই একজন- রংমিস্ত্রীর মেয়ে ফাতেমা আক্তার। জানতে পারেন পুলিশে চাকরি পেতে টাকা লাগে না। পরে আবেদন ফরম পূরণ করে লাইনে দাঁড়ালে বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হলেন।

বুধবার (২৪ নভেম্বর) রাত ৮টায় জয়পুরহাট পুলিশ লাইন্সে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে ফলাফল ঘোষণার পর আনন্দে কেঁদে ফেলেন এ তরুণী। পাশে এসে দাঁড়ান বাবা হয়রত আলী ।

হয়রত আলী বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে খুশির দিন আজ। বিনা পয়সায় আমার মেয়ের চাকরি হইছে। টাকা ছাড়া চাকরি হয়, এটি আইজই দেখলাম।

ফাতেমার বাড়ি জয়পুরহাট সদর উপজেলার দেবীপুর গ্রামে।

জয়পুরহাট সরকারি শিশু পরিবারে বেড়ে উঠেছেন এতিম মাহমুদুল হাসান। মাত্র ১০৩ টাকায় পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি হয়েছে তার। নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই আবেগাপ্লুত মাহমুদুল হাসান।

ফাতেমা ও মাহমুদুল হাসানের মতো ১৯ জন শুধুমাত্র মেধা ও যোগ্যতায় মাত্র ১০৩ টাকায় পুলিশে চাকরি পেয়েছেন।

বুধবার জয়পুরহাট পুলিশ লাইন্সে নিয়োগের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা।

জেলা পুলিশ সুপার মাছুম আহাম্মদ ভুঞা জানান, জয়পুরহাট জেলায় ১৯ জন কনস্টেবল পদে নিয়োগে পেলো। ১৫ ও ১৬ নভেম্বর ৭৬০ জন প্রার্থী প্রাথমিক পরীক্ষায় অংশ নেয়। এতে যাচাই-বাছায়ের পর শারীরিক সক্ষমতা অর্জন করে ১৬৭ জন। ১৭ নভেম্বর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয় ৪৫ জন। আর ২৪ নভেম্বর বুধবার চূড়ান্ত পরীক্ষায় পাস করে ২৪ জন। তাদের মধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয় ১৯ জনকে। অপেক্ষমান আছেন ৫ জন।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ নজিরবিহীন ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আইজিপি শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে এ নিয়োগ সম্পন্ন করার জন্য কড়া নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা পেশাদারত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।

রাশেদুজ্জামান/এমএইচআর

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]