নৌকা প্রার্থীর সমর্থককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শরীয়তপুর
প্রকাশিত: ০৩:৩০ পিএম, ২৬ নভেম্বর ২০২১

শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর এক সমর্থককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা (৬০)। তিনি আংগারিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরযাদবপুর গ্রামের মৃত নাজির মোল্লার ছেলে।

গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাতাং পাকার মাথা এলাকায় বিদ্রোহী প্রার্থী (আনারস) আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আহত হন রাজ্জাক মোল্লা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরমধ্যে আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদে আওয়ামী লীগের (নৌকা) চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন আসমা আক্তার। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (আনারস) আনোয়ার হোসেন হাওলাদার। তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। নির্বাচনে বিজয়ী হন আনোয়ার হোসেন হাওলাদার।

ভোটের আগে ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাতাং পাকার মাথা এলাকায় নির্বাচনী ক্লাবে ১০ থেকে ১৫ জন আসমা আক্তারের সমর্থকরা বসে ছিলেন। ওই সময় বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সমর্থকরা ক্লাবের সামনের সড়ক দিয়ে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়।

এক পর্যায়ে আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের কর্মী-সমর্থকরা আওয়ামী লীগের সমর্থক আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, আক্তার মোড়ল (৪৫) ও বাবু মোল্লাকে (৩০) দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেন। এসময় নৌকার একটি ক্লাবঘর, তিনটি মোটরসাইকেল, কয়েকটি দোকানঘর ভাঙচুর ও তাজুল ইসলাম মোল্লার দুটি ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। পরেরদিন ৭৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেন আসমার সমর্থক মনির মোড়ল।

নিহত আব্দুর রাজ্জাক মোল্লার ছেলে বাবু মোল্লা বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও তার সমর্থকরা আমার বাবাকে কুপিয়ে আহত করেন। পরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিলে তারা উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা পাঠান। প্রথমে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতাল ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ভোরে বাবা মারা যান।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবাকে হত্যা করেছে আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও তার কর্মী-সমর্থকরা। আমি বাবা হত্যার বিচার চাই।’

জানতে চাইলে বিদ্রোহী প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, ‘দোষতো আমাদেরই দেবে। কারণ আমরা তাদের বিপক্ষে ছিলাম। আসলে রাজ্জাক মোল্লার ঘটনায় আমরা জড়িত নই।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আসমা আক্তার বলেন, ‘রাজ্জাক মোল্লাকে আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও তার লোকেরা কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা হত্যা মামলা করবো।’

শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আক্তার হোসেন মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যার হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছিল। আমরা আটজন আসামিকে গ্রেফতারও করেছিলাম। আহত রাজ্জাক মোল্লা মারা গেছেন। এখন হত্যা মামলা হবে।’

মো. ছগির হোসেন/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]