কালিয়াকৈরে নৌকার ভরাডুবি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি গাজীপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪৯ এএম, ২৯ নভেম্বর ২০২১
নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেল, পৌরমেয়র মো. মজিবুর রহমান

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে শান্তিপূর্ণভাবে তৃতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেইসঙ্গে দীর্ঘ ১১ বছর পর কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাচনও সম্পন্ন হয়। কালিয়াকৈর পৌরসভা নির্বাচনে মো. মজিবুর রহমান প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ভোটের ব্যবধানে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিম রাসেলকে পরাজিত করে ফের পৌরমেয়র পদে জয়ী হয়েছেন।

রেজাউল করিম রাসেল কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। আর মো. মজিবুর রহমান বিএনপির কেন্দ্র্রীয় কমিটির সদস্য ও গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক।

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে নৌকার প্রার্থীরা ধরাশয়ী হয়েছেন। এ ছয়টিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

এরা হলেন- আটাবহ ইউনিয়নে সাবেক চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন মোল্লার ছেলে যুবলীগ নেতা শাকিল মোল্লা (স্বতন্ত্র বিদ্রোহী), ঢালজোড়া ইউনিয়নে ইছাম উদ্দিন (বিদ্রোহী বহিষ্কৃত-স্বতন্ত্র), সূত্রাপুর ইউনিয়নে সোলাইমান মিন্টু (বিএনপি পন্থী-স্বতন্ত্র), মধ্যপাড়া ইউনিয়নে সিরাজুল ইসলাম (বিদ্রোহী বহিষ্কৃত-স্বতন্ত্র), চপাইর ইউনিয়নে সাইফুজ্জামান সেতু (বিদ্রোহী বহিষ্কৃত- স্বতন্ত্র), বোয়ালী ইউনিয়নে (বিদ্রোহী বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র)। এছাড়া ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নে একমাত্র নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শাহ আলম নির্বাচিত হয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেলের সংসদীয় আসন কালিয়াকৈরে নৌকা প্রার্থীর চরম ভরাডুবিতে দলের নেতাকর্মীরা পরাজয়ের নানা বিশ্লেষণ করছেন।

দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানায়, কালিয়াকৈর পৌরসভা ও ইউনিয়নগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বাছাই সঠিক ছিলো না। অপেক্ষাকৃত কম জনপ্রিয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়ায় নির্বাচনে দলের এমন বিপর্যয় ঘটেছে।

বিশেষ করে ১০ বছর পর কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের টার্গেট ছিল এটিতে নিজেদের দলের প্রার্থীকে জয়ী করে আনা। এজন্য মেয়র পদে ছয়জন নেতা নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। নির্বাচনের অল্প কিছুদিন আগে চাপাইর ইউনিয়নের ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তন করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাসেল পৌর এলাকার ভোটার হন। এর পর তিনি পৌর মেয়র পদে মনোনয়ন নিশ্চিত করেন।

তার মনোনয়ন প্রাপ্তির পর আওয়ামী লীগের অপর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বড় একটির অংশের ক্ষোভ উপরে উপরে প্রশমিত হলেও ভেতরে সেই ক্ষোভ থেকেই গিয়েছিল বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন।

এছাড়া উপজেলা থেকে এসে পৌর এলাকায় নৌকার প্রর্থী হওয়ায় অনেকে রেজাউল করিম রাসেলকে মেনে নিতে পারেনি। যে কারণে ভোটের মাঠে তিনি নিজকে মেলে ধরতে না পারায় তার ভরাডুবি হয়েছে। এছাড়া প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মুজিবুর রহমানের সমর্থকদের ওপর হামলা, প্রচারে বাধাসহ নানা কারণে নৌকার প্রার্থীর প্রতি বিরক্ত ছিলেন সাধারণ ভোটাররা। এসব কারণে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় ঘটে বলে স্থানীয়দের ধারণা।

অপরদিকে উপজেলার সাতটি ইউপিতে নৌকার প্রার্থী মনোনয়ন সঠিক ছিলো না বলে ছয়জনের পরাজয় ঘটেছে বলেও স্থানীয়দের ধারণা।

আমিনুল ইসলাম/এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]