মাত্র ৯৯ ভোট পেলেন নৌকার রেখা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৯:১০ পিএম, ২৯ নভেম্বর ২০২১

তৃতীয় ধাপে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৫টির বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা হয়। এর ছয়টিতে আওয়ামী লীগ ও ৯টিতে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। নৌকার হেরে যাওয়া ইউনিয়নগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন ভোট পেয়েছেন নৌকার দুই প্রার্থী।

চকরিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী হওয়া জন্নাতুল বকেয়া রেখা পুরো ইউনিয়ন মিলে ভোট পেয়েছেন মাত্র ৯৯টি। আর পেকুয়ার মগনামায় নাজেম উদ্দিনের নৌকা প্রতীকে ভোট পড়েছে মাত্র ১৪৫টি। তাদের এ করুন পরিণতি দেখে- কেন এবং কীভাবে তারা নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে কক্সবাজারজুড়ে। আলোড়ন চলছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও।

রিটার্নিং কর্মকর্তার মতে, রোববার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কৈয়ারবিল ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জন্নাতুল বকেয়া রেখা পেয়েছেন ৯৯ ভোট। এ ইউনিয়নে ৩ হাজার ৭৫৭ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মক্কী ইকবাল হোসেন। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজল উর রহমান চৌধুরী পেয়েছেন ৩ হাজার ৩১৩ ভোট।

পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নাজেম উদ্দিন পেয়েছেন মাত্র ১৪৫ ভোট। এ ইউনিয়নে ৫ হাজার ২৭০ ভোট পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ইউনুছ চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম পেয়েছেন ৫ হাজার ২৪৫ ভোট।

দুই উপজেলার দুই ইউনিয়নে সরকার দলীয় নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেও এত অল্প সংখ্যক ভোট পেয়ে জামানত হারানোয় জেলাজুড়ে আলোচনা সমালোচনার ঝড় চলছে। নৌকার ভরাডুবি নিয়ে মুখরোচক আলোচনায় মেতে উঠেছে অনেকে। দলীয় প্রতীকের এমন বিপর্যয় দেখে খোদ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

একইভাবে ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনে নৌকার দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তারা হলেন, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থী এম এ মনজুর (১৩৩৪ ভোট) ও রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মোয়াজ্জেম মোরশেদ (৮৫৪ ভোট)। পালংখালী ইউপিতে মোট ভোটার ১৮ হাজার ৬৫৭ জন আর ৬ প্রার্থী পেয়েছেন ১৬ হাজার ১৯১ ভোট। প্রদত্ত ভোটের আট ভাগ হলে ২ হাজার ২৪ ভোট পাওয়া দরকার ছিল নৌকার প্রার্থীর।

অপরদিকে রামু উপজেলার রশিদ নগর ইউনিয়নে তিন প্রার্থীর প্রদত্ত ভোট ৮ হাজার ৭৭৭। সেই হিসেবে নৌকার প্রার্থীর জামানত ঠিক রাখতে ভোট পাওয়া দরকার ছিলো এক হাজার ৯৭ ভোট। কিন্তু নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মোয়াজ্জেম মোরশেদ পেয়েছেন ৮৫৪ ভোট। তিনি তার ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড কেন্দ্রে পেয়েছেন মাত্র ৫ ভোট। নৌকার এমন পরাজয়ের পর দলীয় নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা আওয়ামীলীগকে দায়ী করেছেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রাশেদুল ইসলাম তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, মগনামা ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের এমন শোচনীয় পরাজয়ের দায় কার??

আরেকটি পোস্টে তিনি দুই উনিয়নের ফলাফল সিট দিয়ে লিখেছেন, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে উনারা কেন আওয়ামী লীগ তথা নৌকা মার্কার মনোনয়ন পেয়েছেন তা খতিয়ে দেখা দরকার বলে মনে করি।

তার দুটি পোস্টে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী নানাভাবে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে কমেন্ট করছেন। নৌকার এমন পরাজয়ে স্থানীয় সাংসদ জাফর আলমের কারসাজি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। আবার এসবের জন্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বা মনোনয়ন বোর্ড দায়ী বলেও মন্তব্য করেছেন ক্ষুব্ধ নৌকাপ্রেমীরা।

ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বজল আহমেদ বাবুল বলেন, নৌকার বিজয়ের লক্ষ্যে আমরা কাজ করেছি। কোনো ত্রুটি ছিল না। স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী বিদ্রোহীর পক্ষে যাওয়াতে ক্ষতি হয়েছে।

কক্সবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এম এম শাহাদাত হোসেন বলেন, একজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের চেয়ে কম ভোট পেলে ওই প্রার্থীর জামানতের টাকা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। সেই হিসেবে যারা কাস্টিং ভোটের এক অষ্টমাংশ পাবেন না তাদের জামানত নিয়মমতে বাজেয়াপ্ত হবার কথা। আমরা খতিয়ে দেখব কে জামানত পাওয়ার যোগ্য, আর কে যোগ্য নয়। যোগ্য হলে জামানত ফেরত পাবেন, আর না হলে জামানতের টাকা সরকারি কোষাগার জমা হবে।

সায়ীদ আলমগীর/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]