নামে মিল, বিনা দোষে জেল খাটছেন যুবক

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৬:২২ পিএম, ০১ ডিসেম্বর ২০২১

গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের বাসিন্দা রাকিব (২৫)। মাদকের একটি মিথ্যা মামলায় ২২ দিন ধরে জেলে তিনি। বুধবার (১ ডিসেম্বর) সকালে এমন অভিযোগ করেন রাকিবের বাবা-মা ও তার গ্রামবাসী।

রাকিবের বাড়িতে সুনসান নীরবতা। ২২ দিন ধরে স্বজনদের নাওয়া-খাওয়া নেই। পুরো বাড়ি যেনো খা খা করছে। দেখলেই মনে হবে যেনো এক মরা বাড়ি। রাকিবের মা রাহিমা বেগম (৪০) বার বার ছেলের কথা বলে মূর্ছা যাচ্ছেন। ছেলে স্থানীয় বিভিন্ন পোল্ট্রি ফার্ম থেকে মুরগি নিয়ে উত্তরায় দোকানে দোকানে সাপ্লাই দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন ওই মামলায় সে জেলখানায়।

রাকিবের বাবা শারীরিক প্রতিবন্ধী আক্তার হোসেন (৫০) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার একমাত্র ছেলে। নিজের সর্বস্ব দিয়ে ছেলেকে লেখাপড়া করাচ্ছি। লেখাপড়ার পাশাপাশি পিকআপ দিয়ে পোল্ট্রি ফার্মের ব্যবসা করে সে।

তিনি আরও জানান, চলতি বছরের ২৭ আগস্ট জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ২০৩ পিস বিয়ারসহ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের রাথুরা গ্রামের সাইজ উদ্দিনের ছেলে শহিদুল্লাহকে (৩২) আটক করে। পরে পুলিশ ধৃত আসামি শহিদুল্লাহর জবানবন্দি অনুযায়ী ওই ঘটনায় পরদিন ২৮ আগস্ট ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে শহিদুল্লাহ তার ছোট ভাই আশরাফুলসহ রাকিব ও রুবেলের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। তবে মামলায় রাকিব ও রুবেলের বাবার নাম অজ্ঞাত ছিল। ওই মামলায় ডিবি পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার আগে আসামিদের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাই করার জন্য কালীগঞ্জ অনুসন্ধান টিম পাঠায়। পরে কালীগঞ্জ থানার পক্ষে ওই অনুসন্ধান টিম উলুখোলা পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক মুকুল তালুকদার তদন্ত করে রাকিবের বাবার নাম আক্তার উল্লেখ করে পাঠিয়ে দেন এবং মামলার আরেক আসামি রুবেলকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

পরে গত নভেম্বর মাসের শুরুর দিকে আমরা জানতে পারি আমার ছেলে ওই মামলার আসামি। পরে সরল মনে ছেলেকে নিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গেলে আদালত আমার ছেলেকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এখন সে ২২ দিন ধরে জেলে। আমি আমার নির্দোষ ছেলের মুক্তি চাই।

রাথুরা গ্রামের সাইজ উদ্দিনের ছেলে মো. আশরাফুল মোবাইলে জানান, আসলে ওইদিন আমাদের সঙ্গে এ ঘটনায় আক্তার কাকার ছেলে রাকিব জড়িত না। আমাদের সঙ্গে যে রাকিব জড়িত ছিল সে আমার বন্ধু। তার বাড়ি পাড়াবর্তা (নাওটান) গ্রামে এবং বাবার নাম তাইজউদ্দিন তাজু।

রাথুরা দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জালাল হোসেন বলেন, ‘আমি ১১ বছর ধরে এ মসজিদে ইমামের দায়িত্ব পালন করছি। রাকিবের নামে এ ধরনের কথা কখনো শুনিনি। সে খুবই নম্র ও ভদ্র ছেলে।’

কালীগঞ্জ থানার পক্ষে আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই-বাছাইকারী পুলিশ কর্মকর্তা মুকুল তালুকদার বর্তমানে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানায় কর্মরত। তিনি মোবাইলে জানান, মাত্র এক মাস কালীগঞ্জ থানার উলুখোলা ফাঁড়ির অধীনে কাজ করেছি। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাম-ঠিকানা পাঠিয়েছি।

মামলার বাদী গাজীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, মামলায় চারজনের নাম দিলেও শহিদুল্লাহ এবং আশরাফুলের বাবার নাম উল্লেখ করেছি। তবে রাকিব ও রুবেলের বাবার নাম জানতে না পারায় অজ্ঞাত রেখেছি। পরে ওই মামলা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বদিউজ্জামান তদন্ত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বদিউজ্জামান বলেন, এখানে আমার কিছু করার নেই। ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান করে কালীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় পূর্ণাঙ্গ নাম নিয়েছি। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সেটা অনাকাঙ্ক্ষিত বলেন তিনি।

আবদুর রহমান আরমান/আরএইচ/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]