দলের সদস্যের মৃত্যুর স্থান ছেড়ে যায়নি হাতির দল, গভীর রাতে তাণ্ডব

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৯:৫৪ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ীতে তাণ্ডব চালিয়েছে বন্যহাতির দল। বুধবার (১ ডিসেম্বর) দিনগত মধ্যরাতে উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাটা গ্রামে এ তাণ্ডব চলে। এসময় প্রায় পাঁচ একর জমির আমন ধান নষ্ট ও কৃষকদের ঘর ভেঙে দেয় হাতির পাল।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৮ নভেম্বর উপজেলার পানিহাটা গ্রামের ফেকামারি এলাকায় আড়াই বছরের একটি বন্যহাতির মৃত্যুর পর থেকে হাতির দলটি সীমান্তের তালতলা এলাকার জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। বুধবার রাতে ৪০ থেকে ৫০টি হাতি পানিহাটা এলাকার বিশপ নগরে এসে হাসমত আলী নামের এক ব্যক্তির বসতঘরে তাণ্ডব চালিয়ে ঘরটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এসময় হাসমত আলী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বাঁচেন। সেখান থেকে হাতির দলটি পানিহাটা পাহাড়ের ঢালের ১৫ থেকে ১৬ জন কৃষকের প্রায় পাঁচ একর জমির ধান খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে।

খবর পেয়ে বনবিভাগের গোপালপুর বনবিট কর্মকর্তা, এলাকাবাসী ও এলিফ্যান্ট রেসপন্স টিমের সদস্যরা মশাল ও টর্চলাইট জ্বালিয়ে, পটকা ফুটিয়ে ও হই-হুল্লোর করে হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফেরাতে চেষ্টা করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে হাতির দলটি আবার পাশের তালতলা জঙ্গলে চলে যায়।

jagonews24

ওই এলাকার কৃষক হাসমত আলী বলেন, ‘হাতির চিৎকার শুনেই আমরা ঘরবাড়ি ছেড়ে দৌড়ে পালিয়েছি। আমার থাকার ঘরটি হাতির দল ভেঙে ফেলেছে। পরিবার নিয়ে অন্যের বাড়িতে গিয়ে রাত কাটিয়েছি।’

অপর কৃষক আবু হানিফ বলেন, হাতির দলটি আগুন ও মানুষ দেখেও ভয় পায় না। এখন হইহল্লা করেও কাজ হয় না। হাতির দলটি তাড়াতে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় গোপালপুর বিট কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, বুধবার রাতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি হাতি জঙ্গল থেকে লোকালয়ে নেমে আসে। এরপর থেকে মশালের আলো জ্বালিয়ে গ্রামবাসীদের নিয়ে হাতি তাড়িয়ে দেওয়া হয়। তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বনবিভাগের কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বনবিভাগের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আবদুল করিম বলেন, পানিহাটার তালতলা জঙ্গল থেকে প্রতি রাতেই হাতির দলটি খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। আমরা এলাকাবাসীদের সঙ্গে নিয়ে হাতির তাণ্ডব থেকে জানমাল রক্ষা করতে কাজ করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নালিতাবাড়ী থানায় জিডি করে বনবিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে বলা হয়েছে। হাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা ন্যায্য ক্ষতিপূরণ পাবেন।

ইমরান হাসান রাব্বী/এসআর

 

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]