ঢাবি-চবিতে সুযোগ পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত রবিউলের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি লালমনিরহাট
প্রকাশিত: ০৩:৪৪ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছেন না রবিউল ইসলাম। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে রবিউলসহ তার পরিবারের।

রবিউল ইসলাম লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের তিস্তার চরাঞ্চলের দিনমজুর আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট রবিউল। ইতোমধ্যে তিন বোনের বিয়ে হয়েছে।

রবিউল ইসলাম জানান, এক সময় জমিজমা ও অর্থ-সম্পদ ছিল তার পরিবারে। কিন্তু সর্বনাশা তিস্তা পরিবারের সে সুখ তছনছ করে দিয়েছে। সব হারিয়ে চরাঞ্চলের অন্যের জমিতে কোনো মতে রাত যাপন করছেন তার পরিবার।

স্থানীয়রা জানায়, ২০১৮ সালে গোবরধন হায়দারীয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ-৫ ও ২০২০ সালে লালমনিরহাট সরকারি কলেজ থেকে একই বিভাগ থেকে জিপিএ- ৪.৪২ পেয়েছেন।

এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ঢাবিতে ‘ক’ ইউনিটে ২৭৫৭ তম ও চবিতে ‘ক’ ইউনিটে ৯৮৭তম স্থান অর্জন করেন।

এছাড়া গুচ্ছে ৫২.৫২ নম্বর রয়েছে তার। রবিউলের ইচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবেন। কিন্তু সেখানে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ। এজন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন।

রবিউল জানান, করোনাকালীন সময়ে অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করতে হয়েছে। কাজ করে জমানো টাকা ও বাবার দিনমজুরের টাকায় রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোর্চিংয়ের পেছনে ব্যয় করতে হয়েছে।

এ বিষয়ে রবিউল ইসলামের বাবা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, মোর বাবাটা কী টাকার জন্য পইড়বার পাবার নয়, এই দুনিয়াত কী কোনো লোক সাহায্য করিবার নাই।

গোবরধন হায়দারীয়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান বলেন, রবিউল অত্যন্ত মেধাবী। তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

রবিউল ইসলাম/আরএইচ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]