লাঞ্ছনার পর প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ, ৯৯৯-এ ফোন করে উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৪:৫৪ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

বরগুনায় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনার পর কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে তালা ভেঙে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।

রোববার (৫ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বেতাগী উপজেলার কুমড়াখালী শঁশী ভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- ষষ্ঠ, নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার জন্য রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় বিদ্যালয়ে আসেন প্রধান শিক্ষক মঈনুল ইসলাম। এরপরই সাবেক কমিটির সদস্য ফণি ভূষণ সিংহ, বিনয় ভূষণ সিংহসহ ১০-১২ জন লোক এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকেন।

এক পর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছনা করেন। তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন ছিনতাই করে রুমের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে দেন। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি জানালে বেতাগী থানা পুলিশ ও ইউএনও প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে।

jagonews24

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মঈনুল ইসলাম বলেন, এক মাস ধরে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়ান সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সভাপতি ও তাদের সমর্থকরা। এর জেরে আমাকে লাঞ্ছনা করা হয়।

তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ফণি ভূষণ সিংহ, বিনয় ভূষণ সিংহের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি জয়ন্তী রাণী জাগো নিউজকে বলেন, ম্যানেজিং কমিটির দ্বন্দ্বের কারণে বরিশাল শিক্ষাবোর্ড থেকে আমাকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে কাজ করে একটি রাজনৈতিক চক্র। আমি তাদের নাম বলতে পারবো না। এত দ্বন্দ্ব থাকলে বিদ্যালয় পরিচালনা করা সম্ভব না। আমি চাই বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চলুক। এখানে প্রায় এক হাজার ছাত্র-ছাত্রী পাঠদান করে। আমার সভাপতির পদ দরকার নেই, শিক্ষা কার্যক্রমটা চালু থাকা দরকার। শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সুহরিত সালেহীন জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি জানানোর পর আমি নিজেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে তালা ভেঙে প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করি। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বেতাগী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহআলম হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, প্রধান শিক্ষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]