বিএনপি নেতা ও মাদক মামলার আসামির হাতে নৌকা!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি শেরপুর
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০২১

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে অন্তত তিনটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে বিএনপি, ছাত্রদল নেতা ও মাদক মামলার আসামিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সই জাল করে কেন্দ্রে এসব তালিকা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন না করায় তারা হতাশ হয়েছেন। এরইমধ্যে তিনজন প্রার্থীর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পেয়েছে জাগো নিউজ।

সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, উপজেলার ধানশাইল ইউনিয়নে মনোনয়নপ্রাপ্ত তৌফিকুর রহমান এনামুল (সদ্য বিলুপ্ত ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক) শেরপুর জেলা জজকোর্ট এলাকা থেকে মদসহ আটক হয়ে হাজতবাস করা মাদক মামলার আসামি। হাতিবান্দা ইউনিয়নের গত নির্বাচনের নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী নাছির উদ্দিনের বাবা ও স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. ওবাইদুল ইসলামকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কাংশা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতির ছেলে জহুরুল ইসলামও পেয়েছেন নৌকার মনোনয়ন।

ধানশাইল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহিনুর ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার বাড়ির পাশেই এনামুলের বাড়ি। আমি জানি সে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল। সে কোনোদিন আওয়ামী লীগ করে নাই। এছাড়া সে মাদক মামলার আসামি। তার পুরো পরিবারও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতাদের বাদ দিয়ে সে কিভাবে দলীয় মনোনয়ন পায়?’

স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘একজন মাদক মামলার আসামি ও ছাত্রদলের নেতাকে কিভাবে মনোনয়ন দেওয়া হলো সেটি আমার বোধগম্য নয়। এখানকার দলীয় নেতাকর্মীরাও তার পক্ষে নেই।’

ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান জাগো নিউজকে বলেন, ‘তৌফিকুর রহমান এনামুল ধানশাইল ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ওই কমিটি আমার সময়ে অনুমোদন করা।’

এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী তৌফিকুর রহমান এনামুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন।

হাতিবান্ধা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি মকবুল হোসেন বলেন, ‘ওবাইদুল সাহেব ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। তিনি কিভাবে নৌকা পেয়েছেন সেটা আমরা জানি না। আমরা কোনোদিনই তাকে আওয়ামী লীগ করতে দেখিনি।’ একই কথা জানান ইউনিয়ন কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি আবুল কাশেমসহ বেশ কয়েকজন।

তবে হাতিবান্ধা ইউপিতে নৌকার প্রার্থী ওবাইদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কখনও বিএনপি করিনি। আওয়ামী লীগের কাজে সবসময় সহযোগিতা করেছি। আমি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি।’

jagonews24

গত নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নে নৌকা মনোনীত প্রার্থী শাহাদৎ হোসেনের বাবা। এরপরও তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

কাংশা ইউনিয়নে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতির ছেলে জহুরুল ইসলামকে। তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান হলেও তার বিরুদ্ধে স্থানীয়রা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। স্থানীয় সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে অসদাচরণ, ইউপি কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে মারধরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে সই জাল করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসব প্রার্থীদের প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আমিরুজ্জামান লেবু। তিনি বলেন, ‘আমার সই জাল করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসব প্রার্থীদের প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠিয়েছেন। আমি সঠিক প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার দাবি করে আসছি। আমার সই জাল করার বিষয়টির বিচার চেয়েছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম বলেন, ‘ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ রেজুলেশন করে যে তালিকা দিয়েছে, সেটাই জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। আমার ব্যক্তিগত কোনো মতামতে তালিকা কেন্দ্রে পাঠাইনি, পাঠানোর সুযোগও নেই। আর উপজেলা থেকে যে তালিকা পাঠানো হয়েছে সেটিই জেলা কমিটি কেন্দ্রে পাঠিয়েছে।’

এদিকে মনোনয়ন পরিবর্তন করে ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন স্থানীয় এমপি একেএম ফজলুল হক চাঁন। মঙ্গলবার বিকেলে মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের উপস্থিতিতে এই ডিও লেটার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে স্বীকার করেন একাধিক প্রার্থী।

ইমরান হাসান রাব্বী/এসআর/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]