সান্তাহারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি নওগাঁ
প্রকাশিত: ০৬:৪৯ পিএম, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১
নিহতদের বাড়িতে পাড়া-প্রতিবেশী ও স্বজনদের ভিড়

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় প্লাস্টিকের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত পাঁচজনের পরিচয় মিলেছে। বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে নিহতের স্বজনরা আদমদীঘি থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করলে বেলা ১১টার কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস। রাতে নিহত শাহজাহান আলীর বাবা নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেন।

নিহতরা হলেন-উপজেলার পলোয়ান পাড়ার হাসান আলীর ছেলে ইমন আলী মণ্ডল (১৫), সান্তাহার পৌর এলাকার কোমল দোগাছী গ্রামের লুৎফর রহমানের ছেলে শিহাব হোসেন (১৩), ঘোড়াঘাটের মৃত আফছার উদ্দিনের ছেলে আব্দুল খালেক (৫০), সান্তাহার ইউনিয়নের সান্দিড়া গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে শাহজাহান আলী (২৮) এবং ছাতনী গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে বেলাল হোসেন (৫৫)।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সান্তাহার পৌরসভার নওগাঁ-তিলোকপুর সড়কের হবির মোড় এলাকায় বিআইআরএস প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দ্রুত আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়লে কারখানার পাঁচ শ্রমিক আটকা পড়েন। খবর পেয়ে বগুড়া ও নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট প্রায় আড়াই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পাঁচ শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আগুনে পুড়ে নিহত শ্রমিকদের চেহারা বিকৃত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে দেখে চেনার উপায় ছিল না।

নিহতদের পরিবার সূত্র জানায়, কারখানা মালিকের পক্ষ থেকে মরদেহ দাফন-কাফনের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা সহায়তা করা হয়েছে। তবে সরকারিভাবে তারা কোনো সাহায্য পাননি।

২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে প্লাস্টিকের প্লেট ও গ্যাস তৈরির ওই কারখানা চালু করা হয়। কারখানাটিতে দুই শিফটে ৭২ জন শ্রমিক-কর্মচারী কাজ করতেন। সান্তাহার পৌর মেয়র আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, ইসমাঈল হোসেন, জিয়াউল নাছিম রাঙ্গা ও মনোয়ার হোসেন চারজনের যৌথ মালিকানায় কারখানাটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। কারখানার মেশিনাসহ প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি কারখানা মালিকদের।

কারখানার হিসাবরক্ষক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু বলেন, ‘ওই পাঁচজন শ্রমিক কারখানার উত্তর দিকে মেশিনের সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় মেশিন চলাকালীন আগুনের সূত্রপাত ঘটলে সবাই বেরিয়ে আসেন। ওই পাঁচজনও বেরিয়ে আসছিলেন। হঠাৎ প্রবেশ গেটে আসার পর কাজের জায়গায় শীতের কাপড় রাখা আছে বলে নিতে যান। কাপড় নিয়ে গিয়ে তারা আটকে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পর আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়লে তারা মারা যান। নিহত পাঁচ শ্রমিকের দাফনের কাজ সম্পন্নের জন্য পরিবারপ্রতি ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।’

আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দীন বলেন, মঙ্গলবার রাতে ইমন আলী মণ্ডল নামের শ্রমিকের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তার পকেটে থাকা মোবাইলের সূত্র ধরে মরদেহ শনাক্ত করা হয়। এছাড়া বুধবার বেলা ১১টায় আরও চারজনের মরদেহ তাদের পরিবারের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, মরদেহ শনাক্তে স্বজনরা বিভিন্ন ধরনের বর্ণনা দিয়েছিলেন। তাদের দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী মরদেহগুলো মিলে যাওয়ায় ডিএনএ পরীক্ষার শনাক্তের প্রয়োজন পড়েনি।

বগুড়া জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, আগুন লাগার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সালাহউদ্দিনকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।

আব্বাস আলী/এসআর/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।