ইলিশের বিনিময়ে কমিটি!

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল
প্রকাশিত: ১০:৪২ এএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০২১
কমিটিতে পদবঞ্চিতদের ঝাড়ু মিছিল

ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে নগদ টাকা ও ইলিশ মাছের বিনিময়ে বরিশালের মুলাদী পৌর ও উপজেলা শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণার অভযোগ পাওয়া গেছে। সদ্য ঘোষিত ওই কমিটিকে ‘পকেট কমিটি’ আখ্যায়িত করে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ঝাড়ু মিছিল করেছেন।

শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর রোডের বেলতলা এলাকায় এই ঝাড়ু মিছিল করেন নেতাকর্মীরা।

মিছিলে ঝাড়ু হাতে পদবঞ্চিত উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক প্রার্থী মো. সোয়েব সিকদার, সদস্য সচিব প্রার্থী নজরুল ইসলাম সিকদার, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দল সদস্য সচিব প্রার্থী মাসুদ খান রিকুসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী অংশ নেন।

মিছিলে অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা জানান, গত ১৫ ডিসেম্বর কেন্দ্র্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের দফতর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত মুলাদী উপজেলা ও পৌর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। কমিটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচিত, প্রতারক, অযোগ্যসহ নিষ্ক্রিয় বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নাম রয়েছে। তাই ওই পকেট কমিটি বাতিলের দাবিতে ত্যাগী নেতা কর্মীরা ঝাড়ু মিছিল করেছেন।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক প্রার্থী মো. সোয়েব সিকদার জানান, রোকন মোল্লাকে আহ্বায়ক ও মিঠু আহম্মেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আবু জাহিদ মোল্লাকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

মিঠু আহম্মেদ একজন চিহ্নিত প্রতারক। ব্যবসার কথা বলে লোকজনের কাছ থেকে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন তিনি। আবু জাহিদ মোল্লা স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ওই আওয়ামী লীগ নেতা প্রার্থী হলে তার নৌকা প্রতীকের পক্ষে আবু জাহিদ মোল্লা প্রকাশ্যে মাইকিং করেছেন। তাকে যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয়েছে।

অথচ রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে পুলিশি নির্যাতন ও ক্ষমতাসীন দলের হামলা, মামলা, অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তারা কমিটিতে স্থান পায়নি। কমিটি গঠনে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নেতা দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। তারা অযোগ্য ও নিষ্ক্রিয়দের পদ দিতে ব্যাপক অর্থ বাণিজ্য করেছেন। লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব প্রার্থী নজরুল ইসলাম সিকদার জানান, সাইদুর রহমান জীবনকে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব করা হয়েছে। সাইদুর রহমান জীবন দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন। কয়েক মাস আগে দেশে ফিরেছেন। আন্দোলন-সংগ্রাম দূরের কথা সাইদুর রহমান জীবনকে কেউ মিছিলেও দেখেননি। পাশাপাশি, কখনোই রাজনীতির মাঠে দেখা যায়নি এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তিকে উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বরিশাল বিভাগীয় দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আজাহারুল হক মুকুল ও ফরিদ উদ্দিন, বরিশাল জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আমিনুল ইসলাম লিপন নগদ টাকা ও ইলিশ মাছের বিনিময়ে মুলাদী উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণা করেছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে স্বেচ্ছাসেবক দল করে আসা নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়েছে এবং তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জেএম আমিনুল ইসলাম লিপনের মুঠোফোনে শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কয়েকবার কল করা হয়। তবে তার মুঠোফোনটি বন্ধ ছিল। তাই অভিযোগ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য জানা যায়নি।

সাইফ আমীন/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।