৪০০ টাকার জন্য বন্ধুকে খুনের কথা স্বীকার হোসাইনের

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রকাশিত: ০৯:০৯ পিএম, ২৫ ডিসেম্বর ২০২১
অভিযুক্ত হোসাইন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৪০০ টাকা নিয়ে তর্কের জেরে রোমান (২০) নামের এক তরুণকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন অভিযুক্ত হোসাইন (২০)।

শনিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদ হোসাইনের কাছে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন তিনি।

এর আগে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে জেলা শহরের কাজিপাড়ায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত তরুণ রোমান ওই এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর পর হোসাইনকে গ্রেফতার করে সদর মডেল থানা পুলিশ। তিনি একই এলাকার শিশু মিয়ার ছেলে ও নিহত রোমান মিয়ার ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম জানান, রোমান হত্যার ঘটনায় তার বাবা আব্দুর রহমান বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে হোসাইনকে। শনিবার বিকেলে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন তিনি।

পুলিশ জানায়, রোমান অটোরিকশা চালানোর পাশাপাশি কসাইয়ের কাজ করতেন। হোসাইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। বুধবার (২২ ডিসেম্বর) রোমান, হোসাইন ও আরও একজন এক জায়গায় কসাইয়ের কাজ করতে যান। সেই কাজের টাকা বকেয়া ছিল। শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে বকেয়া টাকা হাতে পান রোমান। বকেয়া টাকা হাতে পাওয়ার বিষয়টি হোসাইন জানতে পেরে রোমানের বাড়িতে তার অংশের টাকা আনতে যান। বাড়িতে গিয়ে রোমানকে না পেয়ে তার মায়ের মোবাইল থেকে হোসাইন রোমানকে কল করেন।

রোমান মোবাইলে হোসাইনকে জানান, তিনি শহরে এক বন্ধুর সমস্যায় দৌড়াদৌড়ি করছেন। তিনি এলাকার চায়ের দোকানে অপেক্ষা করতে বলেন। ঘণ্টা দুয়েক পরও না এলে হোসাইন আবার মোবাইলে কল দিলে রোমান একই কথা বলেন।

জবানবন্দিতে হোসাইন জানান, সন্ধ্যায় এক বন্ধুকে ট্রেনে উঠিয়ে দিতে অন্যান্য বন্ধুদের নিয়ে রেলওয়ে স্টেশনে যান তিনি। এসময় চট্টগ্রামগামী মহানগর ট্রেন এলে রোমানকে ওই ট্রেন থেকে নামতে দেখেন। পরে রোমানের কাছে গিয়ে হোসাইন জিজ্ঞেস করেন, ‘তুই আখাউড়া থেকে এলি ট্রেনে, আর মোবাইলে বলছিস শহরে আছিস। আমাকে কেন এতক্ষণ অপেক্ষা করে বসিয়ে রাখলি? তখন রোমান বলেন, ‘তুই আমার বাড়িতে গিয়ে আম্মার নম্বর দিয়ে কেন ফোন দিলি?’ এনিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়।

এর কিছুক্ষণ পরে রোমান, হোসাইন ও অন্যান্য বন্ধুরা স্টেশন থেকে কাজীপাড়া দরগা মহল্লায় একটি চায়ের দোকানে বসেন। সেখান থেকে হোসাইন বাড়িতে যাবেন বলে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পরই কসাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছুরি এনে চায়ের দোকানের ভেতরে গিয়ে রোমানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে হোসাইন। পরে তিনি পালিয়ে যান। রোমানকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মোত্তালেব জানান, হত্যাকাণ্ডের পর হোসাইন ছুরিটি পাশে দীঘিতে ছুড়ে ফেলেন। ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দি শেষে হোসাইনকে সন্ধ্যায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।