স্বাভাবিক প্রসবে ঝুঁকছেন লতাচাপলীর নারীরা
স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রচেষ্টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের ৮৫ শতাংশ প্রসূতি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্ম দেন। এ ইউনিয়নের ১০ শতাংশ প্রসূতি সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিলেও এ ইউনিয়নে শিশু মৃত্যুর হার মাত্র ২ শতাংশ।
ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিসটেন্টের (এফডব্লিউএ) ২০২০ সালের একটি রিপোর্টে দেখা যায়, ওই সালে লতাচাপলী ইউনিয়নে ৮৫৫ জন শিশু জন্মগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৫০২ জন বাড়িতে ও ২২০ জন হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবে সন্তান জন্মলাভ করে। ১৩৩ জন শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে সিজারের (অস্ত্রোপচার) মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করে। ২০-২৫ জন মৃত্যুবরণ করে।
ওই রিপোর্টে দেখা যায়, বেশিরভাগ দম্পতি বাড়িতে নরমাল ডেলিভারিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। আর এতে বেশির ভাগ দম্পতি সফলতাও পেয়েছেন।
ওই ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিসটেন্ট (এফডব্লিউএ) শাহিনুর আক্তার জানান, বেশিরভাগ দম্পতি বাড়িতে বাচ্চা প্রসবের চেষ্টা করেন। সম্ভব না হলে তখন হাসপাতালে গিয়ে স্বাভাবিক প্রসবের চেষ্টা করেন। ব্যর্থ হলে তখনই সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন।
খালেদা খুরশিদ নামের আরেক স্বাস্থ্যকর্মী জাগো নিউজকে জানান, এলাকার বেশিরভাগ দম্পতি আমাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা নিয়ে থাকেন। পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী এ ইউনিয়নে কাজ করছি। প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সহযোগিতা নিলে প্রসবকালীন যে কোনো দুর্ঘটনার সম্ভাবনা কম থাকে। স্বাভাবিক প্রসবে দম্পতিরা সাহস করে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সর্বদা প্রসূতি মায়েদের বিভিন্ন মাধ্যমে পরামর্শ দিয়ে থাকি। তারা যাতে নিকটবর্তী হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের দিকে ঝুঁকে সে বিষয়ে তদারকি করি। কিন্তু বেশিরভাগ দম্পতি বাড়িতেই প্রসবের চেষ্টা করেন। সমস্যা মনে করলে তখন হাসপাতালে ছুটে আসেন।
আসাদুজ্জামান মিরাজ/আরএইচ/এমএস