ইউএনওর আচরণে ক্ষুব্ধ বীর মুক্তিযোদ্ধারা
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিনের অশালীন আচরণে অতিষ্ঠ জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কটূক্তি করারও অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
ইউএনওর অপসারণ দাবিতে গত ৩০ ডিসেম্বর ৩০ বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে অনুলিপি পাঠানো হয়েছে। ইউএনও’র দ্রুত বদলির দাবি জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাসহ সুধীজনরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে আলপনা ইয়াসমিন গত বছরের ৪ জানুয়ারি যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তার অশালীন কথাবার্তা, অন্যায় আবদার ও আচরণ দিন দিন বেড়েই চলছি। বীরমুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মানজনকভাবে নাম ধরে ডাকা, সরকারি ত্রাণের কম্বল দেওয়ার ব্যাপারে অনিচ্ছা প্রকাশসহ তার বিভিন্ন অশালীন আচরণে অতিষ্ঠ বীরমুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়া শিক্ষকসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হেয়প্রতিপন্ন করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
বদলগাছী সদর ইউনিয়নের সাবেক কমান্ডার ও গাবনা গ্রামের বাসিন্দা বীরমুক্তিযোদ্ধা জসমত আলী বলেন, তিনি (আলপনা ইয়াসমিন) ইউএনও হিসেবে যোগদানের কিছুদিন পর থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ সব সেবাগ্রহীর প্রতি একটা বিরূপ আচরণ করেন। তার কাছে আমরা কোনো কাজে গেলে গুরুত্ব দেন না। এমনকি বসার জন্য কোনো স্থানও দেন না। সরকার আমাদের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। কর্মকর্তাদেরও আমাদের প্রতি গুরুত্ব ও সম্মান দিতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমাদের বয়স হয়েছে, আর কয়দিনই বা বাঁচবো। তিনি আমাদের সন্তানের বয়সী। আমাদের সঙ্গে তার এমনটা করা ঠিক হয়নি।
তিনি আরও বলেন, এর আগে যেসব ইউএনও বিদায় নিয়েছেন তারা আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন ও সম্মান করেছেন। কিন্তু তিনিই একমাত্র যিনি আমাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন।

বদলগাছী উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও যুদ্ধকালীন কমান্ডার ডিএম এনামুল হক বলেন, তিনি (ইউএনও আলপনা ইয়াসমিন) মুক্তিযোদ্ধাদের মূল্যায়ন করেন না। আমাদের সম্মানের সহিত না ডেকে নাম ধরে ডাকেন, যা আমাদের কাছে অসম্মানজনক বলে মনে হয়। এমনকি কোনো পরামর্শের জন্য গেলে সহযোগিতা না করে অসম্মানজনক কথা বলেন। শিক্ষক ও সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান করেন না। এর আগে এসব বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু তিনি সংশোধন হননি। তার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ডাকযোগে অভিযোগ পাঠিয়েছি। আমরা তার দ্রুত বদলির দাবি করছি।
মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম দেউয়ান বলেন, উপজেলায় ভাতাভোগী প্রায় ৪৫০ জন বীরমুক্তিযোদ্ধা আছেন। অনেক অসহায় ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। আমরা কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সরকারি ত্রাণের কম্বলের জন্য ইউএনওর কাছে গিয়ে আবদার করেছিলাম এবং যেদিন কম্বল বিতরণ করা হবে সেদিন তিনি উপস্থিত থেকে বিতরণ করবেন। এসময় তিনি বীরমুক্তিযোদ্ধাদের বিষয়ে তদন্ত করে কম্বল দেবেন বলেছেন। আমরা মনোক্ষুণ্ন হয়ে সেখান থেকে ফিরে আসি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রধানশিক্ষক বলেন, আসলে কী বলবো, তিনিও প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী আমিও কর্মচারী। তিনি বড় পদে চাকরি করেন আর আমি ছোট পদে। গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর ইউএনও স্যারের অফিসে দেখা করতে যাই। সেসময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন। জেলা শহরে একটি গানের অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হওয়ায় আমাকে ধমক দিয়ে তার অফিস থেকে বের করে দেন। আমি যে গানের অনুষ্ঠানে যাবো, সেখানে যাওয়ার জন্য তো আমাকে বলা হয়নি বা দাওয়াত করা হয়নি। আমি একজন শিক্ষক মানুষ। এভাবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের সামনে অপমান করা আসলে কতটা যৌক্তিক?
এ ব্যাপারে বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আলপনা ইয়াসমিন বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেছেন কি না জানি না। তবে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।
আব্বাস আলী/এফএ/জিকেএস