কুষ্টিয়ায় যৌতুকের জন্য গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ
এখনো মুছেনি হাতের মেহেদী রং। তার আগেই সুমাইয়া খাতুনকে (১৮) যৌতুকের বলি হতে হয়েছে বলে দাবি তার বাবার। তবে শ্বশুর বাড়ির লোকজন বলছেন, পারিবারিক কলহের জের ধরে সুমাইয়া আত্মহত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়ার মিরপুরের আমলা ইউনিয়নের পারমিটন এলাকার শ্বশুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে ঝলসানো অবস্থায় ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।
নিহত সুমাইয়া খাতুন দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুন্ডি ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার আয়েম আলীর মেয়ে। এছাড়া মিরপুর উপজেলার আমলা ইউনিয়নের পারমিটন এলাকার সাদিকুল ইসলামের স্ত্রী।
সুমাইয়ার বাবা আয়েম আলী বলেন, বিয়ের তিনদিন পর তার জামাই জানান, ব্যবসার জন্য টাকা লাগবে। এজন্য সুমাইয়াকে চাপ দেন। কিন্তু আমি গরীব মানুষ হওয়ায় এক লাখ টাকা একবারে দিতে অপরাগতা প্রকাশ করি। এ নিয়ে সে সুমাইয়ার ওপর নির্যাতন চালায়।
তিনি আরও বলেন, কয়েকদিন আগেও টাকা নিতে পাঠিয়েছিল সুমাইয়াকে। বাড়ি থেকে কিছু টাকা নিয়ে স্বামীর বাড়ি যায় মেয়ে। কিন্তু পুরো টাকা না দেওয়ায় স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন তাকে গালমন্দ এবং মারধর করে। যৌতুকের এক লাখ টাকা না পেয়ে আমার মেয়েকে ওরা পরিকল্পিতভাবে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে।
এদিকে আমলা পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই কামরুজ্জামান স্থানীয়দের বরাতে বলেন, ওই গৃহবধূ স্বামীর বাড়িতে গায়ে ডিজেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যা করেন।
কামরুজ্জামান আরও বলেন, প্রতিবেশীদের ভাষ্য মতে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে হয় সুমাইয়ার। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে দেখা দেয় পারিবারিক কলহ।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মস্তফা বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেই সঙ্গে মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
ওসি জানান, নিহতের পরিবারের লোকজন থানায় এসেছেন। এ বিষয়ে চলছে মামলার প্রস্তুতি। ঘটনার পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক।
আল-মামুন সাগর/জেডএইচ/