ব্যাধির শেষ নেই ফরিদপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের

এন কে বি নয়ন এন কে বি নয়ন ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:০৬ এএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২২

ফরিদপুরের একমাত্র বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ক্লিনিকটি নিজেই নানান ব্যাধিতে জর্জরিত। পুরাতন ইমারত, নিরাপত্তার অভাব, অরক্ষিত সীমানা প্রাচীর, নষ্ট জেনারেটর আর জনবল সংকট নিয়ে সেবা প্রদানে ব্যার্থ হাসপাতালটি। সেবার মান নিয়ে শুধু রোগী নয়, হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদেরও আক্ষেপের শেষ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুর শহরতলীর ভাজনডাঙ্গায় ফরিদপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ক্লিনিকটির অবস্থান। স্থাপিত হয় ১৯৬১ সালে। আট একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালটির পাশেই তিন একর জমির ওপর রয়েছে বক্ষব্যাধি ক্লিনিক। বক্ষব্যাধি হাসপাতালটি মাত্র ২০ শয্যা বিশিষ্ট।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের সীমানা প্রাচীরের দেওয়াল কলামের ওপর স্থাপিত হওয়ায় দেওয়ালের নিচে ফাঁক রয়েছে। যা মাটি দিয়ে ভরাট করা প্রয়োজন। ওই ফাঁক এবং হাসপাতালের মূল ফটক দিয়ে অবাধে এলাকাবাসী প্রবেশ করে হাসপাতালের পুকুরে গোসল করা, কাপড় ধোয়া, হাসপাতাল চত্বরেই শুকাতে দেওয়াসহ যাবতীয় কাজ কর করছেন। হাসপাতালের সামনে একটি পিলারে বিবর্ণ জাতীয় পতাকা দেখে সহজেই অনুমান করা যায় হাসপাতালটির করুণ অবস্থা।

jagonews24

বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রয়েছে জনবল সংকট। ক্লিনিকে জুনিয়র কনসালটেন্ট থেকে শুরু করে আয়া পর্যন্ত মোট পদ আছে ১৭টি। এর মধ্যে জনিয়র কনসালটেন্ট, মেডিকেল অফিসারসহ ১৫টি পদ ফাঁকা রয়েছে।

অপরদিকে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার, ফার্মাসিস্টসহ পদ রয়েছে ১৯টি। এর বিপরীতে কর্মরত আছেন ১৭ জন। তবে এর মধ্যে তিনজন ওয়ার্ড বয় ও দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জেনারেল হাসপাতাল ও সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে ডেপুটেশনে রয়েছেন। এছাড়া আটজন স্টাফ নার্সের মধ্যে চারজন বর্তমানে করোনার টিকা দেওয়ার কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত।

সোমবার (১০ জানুয়ারি) পুরো হাসপাতালটিতে মাত্র ৫ জন রোগীর দেখা মেলে। তারা যক্ষা ও শ্বাসকষ্টের রোগী। বাড়ি আশপাশের এলাকায়। দিনে আসেন সন্ধ্যার পর চলে যান।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শহরের টেপাখোলার বাসিন্দা রিকশাচালক মো. শহরউদ্দিন খান (৮৮), ব্যাপারিপাড়ার বাসিন্দা জানে আলম (৬৬), ছকদুল বেপারীর স্ত্রী মলিনা বোপারি (৫১) ও টেপাখোলা মহল্লার বাসিন্দা রিকশাচালক দেলোয়ার বেপারীর স্ত্রী হালিমা বেগম (২৯) জাগো নিউজকে বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে যক্ষা ও শ্বাসকষ্টজনীত রোগে আক্রান্ত। রাতে নিরাপত্তা ভালো না থাকায় হাসপাতালে থাকেন না। সকালে আসেন সন্ধ্যার পর চলে যান। এভাবে তারা গত তিন মাস ধরে চলছেন। রোগ-ব্যাধি যাইহোক মূলত তিন বেলা খাওয়ার জন্যই তাদের হাসপাতালে ভর্তি থাকা।

হাসপাতালটির বাবুর্চি হিরা খান জাগো নিউজকে বলেন, ৮ জন রোগীর জন্য রান্না করছি। রোগীদের সকালে কলা পাউরুটি ও ডিম দেওয়া হয়। দুপুর ও রাতে ভাত ও তরকারি দেওয়া হয়। যেদিন মাছ করা হয় সেদিন রোগী প্রতি দেড়শ গ্রাম মাছ এবং যে দিন মাংস রান্না হয় সেদিন রোগী প্রতি ৫৬ গ্রাম মাংস দেওয়া হয়।

বাবুর্চি হিরা খান আরও বলেন, তিনি দেড় বছর ধরে বাবুর্চি হিসেবে কাজ করছেন। এ হাসপাতালে গড়ে সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৩ জন রোগীর রান্না তিনি করেছেন।

jagonews24

হাসপাতালের সেবিকা (নার্স) নীরু শামসুন্নাহার জাগো নিউজকে বলেন, সকাল আটটা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে তাদের ডিউটি। ২০২১ সালের তালিকা অনুযায়ী মোট ৫২ জন রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে।

ফরিদপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার মেরিনা পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতাল ও ক্লিনিকের প্রধান সমস্যা হচ্ছে লোকবল সমস্যা। এছাড়াও এলাকাবাসীদের ব্যাবহার ও আচরণগত সমস্যা আছে। রোগীরা রাতে থাকেন না, নিরাপত্তার অভাবের কারণে।

তিনি বলেন, সীমানা প্রাচীর ঠিক করে দেওয়ার জন্য বহুবার কর্তৃপক্ষের কাছে লেখা হয়েছে কিন্তু সমস্যার সমাধান হয় না। এ হাসপাতালের অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। জেনারেটর নষ্ট। তবে এখানে এক্স-রে, কফ পরীক্ষার মেশিন আছে। আগত রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন মো. ছিদ্দীকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বক্ষ্যব্যাধি (যক্ষা) হাসপাতাল ও ক্লিনিকের নানা সমস্যার বিষয়টিতে আমরা অবগত। সংকট কাটানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

এফএ/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]