অসময়ের শিলাবৃষ্টিতে জামালপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি জামালপুর
প্রকাশিত: ০২:৪৮ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২২
বৃষ্টিতে নুইয়ে পড়েছে ফসল

জামালপুরের মাদারগঞ্জে অসময়ের শিলাবৃষ্টিতে সরিষা, ভুট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হয়েছে। এলাকাবাসী বলছেন, এর আগে শীত মৌসুমে এমন শিলাবৃষ্টি কখনো কেউ দেখেননি। তবে আবহাওয়াবিদরা বলছেন, এমন ঘটনা নতুন নয়। শীতকালীন সময়ে যেসব জায়গায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয় সে থানে এমন বৃষ্টি হতেই পারে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় এক হাজার ৭৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা, ৩১০ হেক্টর জমিতে গম, ৯১০ হেক্টর জমিতে সরিষা, এক হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া পেঁয়াজ ও রসুনসহ বিভিন্ন সবজির ব্যাপক ফলন হয়েছে।

jagonews24

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে উপজেলা জুড়ে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয় শিলা বৃষ্টি। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলে এ বৃষ্টি। এসময় কোথাও কোথাও শিলার স্তূপ জমে বরফের মতো সাদা হয়ে যায়। পৌষের এমন ঝড় ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে মাটির সঙ্গে নুইয়ে পড়ে গম, ভুট্টা, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি। বৃষ্টিতে সদ্য গুটি আসা আম ও লিচুর ব্যাপক ক্ষতি হয়। এতে কৃষকের কপালে পড়ে চিন্তার ভাঁজ।

বালিজুড়ী ইউনিয়নের সুখনগরী দ্বিপচর এলাকার কৃষক সুমন জাগো নিউজকে বলেন, ছোট থেকেই আমরা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। আমার জন্মের পর এমন শিলাবৃষ্টি আগে কখনো দেখিনি। অসময়ের এমন বৃষ্টিতে আমার মতো আরও অনেক কৃষকের ভুট্টাসহ নানা ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আবুল হোসেন নামে এক মরিচচাষি বলেন, পৌষ মাসে যে এমন শিলাবৃষ্টি হয় তা জন্মের পর এ প্রথম দেখলাম। ব্যাপক শিলাবৃষ্টির ফলে আমার এক একর জমির মরিচের ক্ষেত সবটুকু নষ্ট হয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, শিলাবৃষ্টিতে কী পরিমাণ ফসলের ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে তা সরেজমিনে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মাঠে থেকে কৃষকদের যেন সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, উপজেলার কিছু এলাকার ভুট্টার গাছ নুয়ে পড়েছে। কৃষকরা যদি ভুট্টার গাছগুলো বেধে দেয় তাহলে তেমন কোনো ক্ষতি হবে না।

অসময়ে শিলাবৃষ্টির ব্যাপারে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক জাগো নিউজকে বলেন, এমন ঘটনা আসলে নতুন নয়। শীতকালে এমন শিলাবৃষ্টি হতেই পারে। উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আসা বাতাসের সঙ্গে পশ্চিমা বাতাসের সংমিশ্রণ হয়। সংমিশ্রণের ফলে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়। তখন মেঘমালার এ টপ অনেক ওপরে চলে যেতে পারে, যেখানে তাপমাত্রা মাইনাস ৬০ ডিগ্রি থেকে মাইনাস ৭০ ডিগ্রিতে ওঠা-নামা করে। এ অবস্থায় মেঘমালার মধ্যে শিলাকণা তৈরি হয়। সেগুলো পরস্পরের সঙ্গে লেগে সাইজে বড় কণাগুলো মাধ্যাকর্ষণ শক্তিজনিত কারণে নিচের দিকে ধাবিত হয়। সুতরাং শীতকালীন সময়ে জামালপুরের যেসব জায়গায় এমন শিলাবৃষ্টি হয়েছে সেখানে গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা তৈরি হয়েছে।

মো. নাসিম উদ্দিন/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]