বাড়িতেই টমেটো সংরক্ষণ, অটুট থাকবে স্বাদ-গুণাগুণ

জাগো নিউজ ডেস্ক
জাগো নিউজ ডেস্ক জাগো নিউজ ডেস্ক শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২২
উদ্যোক্তাদের টমেটো সংরক্ষণের পদ্ধতি শেখানো হচ্ছে

বর্তমানে সবার নিত্যদিনের খাদ্য তালিকায় টমেটো প্রথম পছন্দের। ভিটামিন সি ও এন্টিঅক্সিডেন্টের অনন্য উৎস এ টমেটো। তবে মৌসুম ভেদে চাষ হওয়ায় সারাবছর এর সংরক্ষণ কঠিন। কোল্ডস্টোরেজ ব্যবস্থা থাকলেও এটি ব্যয়বহুল। ফলে মৌসুম বাদে টমেটোর দাম থাকে হাতের নাগালের বাইরে।

নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার কথা চিন্তা করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট বিভাগ সহজেই টমেটো সংরক্ষণের নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। ফলে এখন বাড়িতেই নিজের চাহিদা অনুযায়ী টমেটো সংরক্ষণ করতে পারবেন যে কেউ। এতে খরচ যেমন কমবে, তেমনি গুণাগুণও থাকবে অক্ষুণ্ন।

বাড়িতেই টমেটো সংরক্ষণ, অটুট থাকবে স্বাদ-গুণাগুণ

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আমাদের দেশে দুই মৌসুমে টমেটোর চাষ হয়। মৌসুম শুরু হলে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরেই তা সংরক্ষণে কোল্ডস্টোরেজ ব্যবহার করা হতো।

প্রচলিত ব্যয়বহুল এ পদ্ধতিতে টমেটো সংরক্ষণে মৌসুমের পর দাম উঠতো ১০০ টাকার ওপরে। এতে অনেক ভোক্তা তা কিনতে পারতেন না। সঙ্গে টমেটোর গুণাগুণও অক্ষুণ্ন থাকতো না। নানা সব প্রতিবন্ধকতার কথা চিন্তা করেই নতুন ধরনের এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়।

এ পদ্ধতির উদ্ভাবক কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. গোলাম ফেরদৌস চৌধুরী বলেন, টমেটো সংরক্ষণের তেমন সুযোগ না থাকায় এর দাম পাওয়া যেত না। কোল্ডস্টোরেজে রখলেও এর খরচ বেশি। এতে কৃষি অর্থনীতিতে ক্ষতি হতো। নানা সমস্যার কথা চিন্তা করে এ পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়।

বাড়িতেই টমেটো সংরক্ষণ, অটুট থাকবে স্বাদ-গুণাগুণ

তিনি আরও বলেন, মৌসুমে আধাপাকা তাজা টমেটো সংরক্ষণের পর তা পরিষ্কার করে সেনিটাইজ করতে হয়। সেনিটাইজে ব্যবহার করতে হয় ডিমের খোসা থেকে উৎপাদিত ক্যালসিন ক্যালসিয়াম দ্বারা। ১০ লিটার পানিতে ১ গ্রাম ক্যালসিন ক্যালসিয়াম ব্যবহার করে টমেটো ভিজিয়ে রাখতে হয়। ২-৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখার পর উঠিয়ে পানি ঝরাতে হয়। এতে সালমোলিন বা ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হয়। পরে এসব টমেটো একটি আবদ্ধ বয়ামে ২৪ ঘণ্টা মুখ বন্ধ অবস্থায় রাখতে হয়। মুখ বন্ধ করার আগে বয়ামের ভেতর নির্দিষ্ট পরিমাণে ১-মিথাইল সাইক্লোপ্রোপেন দিতে হয়।

গোলাম ফেরদৌস বলেন, ২৪ ঘণ্টার এ প্রক্রিয়ায় টমেটোর মধ্যে থাকা ইথিলিনের কার্যকারিতা অকার্যকর করে দেওয়া হয়। এর ফলেই মূলত টমেটো তার বর্তমান অবস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়। পরে তা ছিদ্রযুক্ত(পারফোরেটেড) বাক্সে বা বয়ামে ঘরে কম তাপমাত্রায় (২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে) রেখে দিয়ে তিন-পাঁচ মাস সংরক্ষণ করা যায়। এ পদ্ধতিতে টমেটো সংরক্ষণে খরচও অনেক কমে যাবে।

এ গবেষক বলেন, কোল্ডস্টোরেজে টমেটো সংরক্ষণ করলে যেমন খরচ অনেক বেশি হয়, তেমনি টমেটোগুলো অনেকটা কুচকে যায়। ঠিকমতো স্বাদও থাকে না। উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে কৃষকরা খুব সহজেই টমেটো সংরক্ষণ করতে পারবেন। ঘরেও এ টমেটো সংরক্ষণ করা যাবে। কম দামে সারা বছর ধরেই এর স্বাদও পাবেন।

পোস্ট হারভেস্ট বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হাফিজুল হক খান জাগো নিউজকে বলেন, এ পদ্ধতিতে টমেটো সংরক্ষণ করলে খরচ অনেক কমে যায়। এরই মধ্যে আমরা টমেটো সংরক্ষণের পদ্ধতি নিয়ে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। তারা এ মৌসুম থেকেই টমেটো সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে।

এসজে/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।