২১ বছর পর নির্বাচন হলেও থেমে গেলো ফলাফল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি যশোর
প্রকাশিত: ০৯:০৯ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২২

অডিও শুনুন

একুশ বছর পর যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় নির্বাচন হলেও মেয়র পদে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। একটি কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত হওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে ওই কেন্দ্র ছাড়া বাকি ১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান মেয়র মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল ১২০১ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।

স্থগিত খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয় কেন্দ্রের ভোটসংখ্যা ১৪শ ৫৯। উচ্চ আদালতে রিটের কারণে শেষ মুহূর্তে ওই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করা হয়।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঝিকরগাছা পৌরসভার নির্বাচনে ১৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি কেন্দ্রের ফলাফলে বর্তমান মেয়র আলহাজ মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৯১৩ ভোট পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫ হাজার ৭১২ ভোট। মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল ১২০১ ভোট বেশি পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

যশোর জেলা প্রশাসনের একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানান, ১৪টি কেন্দ্রের ফলাফলে বর্তমান মেয়র আলহাজ মোস্তফা আনোয়ার পাশা জামাল নৌকা প্রতীক নিয়ে ৭ হাজার ৩৭৫ ভোট পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান হাসান সামাদ নিপুণ কম্পিউটার প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৬ হাজার ১২৬ ভোট। কিন্তু ফলাফল প্রস্তুত করার মুহূর্তে উচ্চ আদালতের নির্দেশে খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয় কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে। এ কারণে ফলাফল ঘোষণাও স্থগিত হয়ে গেছে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, ভোটগ্রহণের তিনদিন আগে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্র পরিবর্তন করে খাদিমুল ইনসান দাতব্য চিকিৎসালয়কে ভোটকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করে। এনিয়ে উচ্চ আদালতে রিটের প্রেক্ষিতে ফলাফল ঘোষণা নিয়ে এই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

ফলাফল প্রসঙ্গে যশোরের অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম বলেন, উচ্চ আদালতে রিটের প্রেক্ষিতে ৪ সপ্তাহের স্থগিতাদেশ পেয়েছেন। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশন থেকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হতে পারে।

এর আগে দিনভর উৎসবমুখর পরিবেশে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ছিল ভোট উৎসবের আমেজ। অনেক কেন্দ্রে ভোটাররা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট প্রদান করেন।

প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেট, স্ট্রাইকিং ফোর্সসহ বিপুল সংখ্যক বিজিবি, পুলিশ, আনসার সদস্য সতর্কতার তাদের দায়িত্ব পালন করেন। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। যা ঝিকরগাছার নির্বাচনী ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। কেন্দ্রে একাধিক পৃথক বুথ থাকায় নারী-পুরুষ ভোটাররা সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

দীর্ঘ ২১ বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে মেয়র পদে ৬ জন, ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ৬৬ জন এবং তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ১৮ জন প্রতিদ্বিন্দ্বিতা করেন।

ঝিকরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল হক জানান, দীর্ঘ বছর পর নির্বাচন হওয়ায় সাধারণ মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ৪ এপ্রিল যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। এই পৌরসভার ভোটাররা প্রথম ভোট দেন ২০০১ সালের ২ এপ্রিল। ৫ বছর পর ২০০৬ সালের ১২ মে এ পৌরসভার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়। এ সময় নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই (২০০৬ সালে) সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন ঝিকরগাছা পৌরসভার কাওরিয়া গ্রামের মৃত মোয়ালেম আলির ছেলে শাহিনুর রহমান, মল্লিকপুরের মৃত উলিউল্লাহ মুনসীর ছেলে সাইফুজ্জামান এবং বামনআলী গ্রামের মৃত নেয়াব মোড়লের ছেলে সাহাদত হোসেন। তিনটি মামলার বাদী তিনজন হলেও মামলার বিষয় ছিল একই।

মামলায় বাদীরা উল্লেখ করেন, তাদের এলাকায় দরিদ্র মানুষের বাস ও আয় কম। পৌর এলাকার অন্তর্ভুক্ত হলে তাদের বেশি করে ট্যাক্স দিতে হবে। ফলে তারা পৌর এলাকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে চান না। এই মামলার কারণে নির্বাচন স্থগিত করেন হাইকোর্ট। সম্প্রতি আদালত মামলার বাদীর এলাকা বাদ রেখেই নির্বাচনের নির্দেশ দেন। এরপর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে।

মিলন রহমান/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]