ছুটির একমাস পর লাশ হয়ে স্কুলে ফিরলেন শিক্ষিকা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি বরগুনা
প্রকাশিত: ০৪:৪৬ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২
অ্যাম্বুলেন্স করে স্কুলে আনা হয় শিক্ষিকা মনিকা রানির মরদেহ

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়েছিলেন স্কুল শিক্ষিকা মনিকা রানি হালদার (৪০)। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ২৫ দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন তিনি। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টায় সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে তার মরদেহ এসে পৌঁছায় বরগুনায়। এরপর প্রথমেই তাকে নেওয়া হয় পৌর শহরের গগন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। সেখানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে তাকে সমাহিত করার জন্য গ্রামের বাড়ি ফুলঝুরিতে নেওয়া হয়।

নিহত মনিকা রানি হালদার বরগুনা পৌর শহরের গগন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তার স্বামী বরগুনা সদরের ফুলঝুরি বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবু বঙ্কিম চন্দ্র মজুমদার। তিনিও একই লঞ্চে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে স্কুল শিক্ষিকা মনিকা রানি হালদারের মৃত্যুতে মঙ্গলবার রাত থেকেই পরিবার, স্বজন, কর্মরত বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বরগুনা জুড়ে বইছে শোকের মাতম।

গগন মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মেডিকেল চেকআপের জন্য আমার সহকারী শিক্ষক মনিকা রানি হালদার গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ছুটি নিয়ে ঢাকায় যান। সেখানে চিকিৎসা শেষে তারা স্বামী-স্ত্রী অভিযান ১০ লঞ্চে বাড়ি ফিরছিলেন। ২৪ ডিসেম্বর তার বিদ্যালয়ে ক্লাস নেওয়ার কথা ছিল। বিদ্যালয়ে তিনি ঠিকই ফিরলেন, তবে লাশ হয়ে। তার মৃত্যুতে বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী আমরা সবাই শোকাহত।

acc1

মনিকা রানির ছেলে বিকাশ জাগো নিউজকে বলেন, অগ্নিদগ্ধ হওয়ার পর প্রথমে মাকে বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে ২৫ দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটউটের আবাসিক সার্জন ডা. এসএম আইউব হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। প্রথম থেকে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, এখন পর্যন্ত ৪৮ জনের মরদেহ এসেছে বরগুনায়। এরমধ্যে ২৪ জনের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় তাদের গণকবরে দাফন করা হয়েছে। বাকিদের শনাক্ত করে তাদের স্বজনরা নিয়ে গেছেন। নিহতদের পরিবারকে দাফন কাফনের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

২৩ ডিসেম্বর দিনগত রাত ৩টার দিকে বরগুনাগামী এমভি অভিযান-১০ লঞ্চটি ঝালকাঠির সুগন্ধা নদী অতিক্রমকালে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ৪৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বরগুনা, ঝালকাঠি ও ঢাকায় পৃথক তিনটি মামলা হয়েছে। মামলায় লঞ্চের মালিকসহ পাঁচজন কারাগারে রয়েছেন।

এসজে/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]