বৃদ্ধের ফেলে যাওয়া দেড় লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলেন চা বিক্রেতা
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সততার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ ব্যবসায়ী মো. জুবায়ের। নিজের চায়ের দোকানে এক বৃদ্ধের ফেলে যাওয়া ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৭০ টাকা কুড়িয়ে পেয়ে প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দিয়েছেন তিনি। বিষয়টি জানাজানির পর জেলাজুড়ে প্রশংসায় ভাসছেন এই যুবক।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে প্রশাসনের উপস্থিতিতে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।
জানা গেছে, এক বৃদ্ধ ব্যক্তি অসাবধানতাবশত জুবায়েরের চায়ের দোকানে টাকার ব্যাগটি ফেলে চলে যান। জুবায়ের টাকাগুলো পাওয়ার পর তা আত্মসাৎ না করে তাৎক্ষণিকভাবে মালিককে খোঁজার উদ্যোগ নেন। সততার পরিচয় দিয়ে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে এলাকায় মাইকিং করান এবং বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে প্রকৃত টাকার মালিক প্রয়োজনীয় প্রমাণ উপস্থাপন করলে প্রশাসনের উপস্থিতিতে তার হাতে এক লক্ষ ৫৭ হাজার ৭০ টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মো. জুবায়ের বলেন, হারামের কোন আরাম নেই। কষ্ট করে পরিশ্রম করে আয়-রোজগার করে সংসার চালাই। এর মাঝে অনেক তৃপ্তি আছে। চেষ্টা করি মানুষ সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে। ওই বৃদ্ধ ভুলবশত আমার দোকানে একটি ব্যাগে টাকাগুলো রেখে চলে যান। পরে আমি অনেক চেষ্টা করে তাকে খুঁজে পাই এবং প্রশাসনের মাধ্যমে তার পুরো টাকাটা তার হাতে হস্তান্তর করা হয়।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম বলেন, এ ধরনের সততার দৃষ্টান্ত সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। জুবায়ের মতো মানুষ আমাদের সমাজের গর্ব। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে যেখানে অর্থের লোভে অনেকেই মানবিকতা ভুলে যান, সেখানে জুবায়েরের এই উদ্যোগ সত্যিই বিরল। এ যুগে এমন সৎ মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যিই দুষ্কর।
প্রসঙ্গত, জুবায়ের কেবল একজন সৎ মানুষই নয়, একজন সফল উদ্যোক্তাও। ভাঙ্গার বিশ্বরোড চৌরাস্তা ও হাইওয়ে থানার সামনে অবস্থিত তার দোকানে ৮০ প্রকারের চা পাওয়া যায়। শিক্ষিত এই তরুণ চা বিক্রি করে প্রতি মাসে প্রায় লক্ষ টাকা আয় করেন। তবে আয়ের বড় একটি অংশ (৩০ শতাংশ) তিনি ব্যয় করেন অসহায় মানুষের সেবায়। প্রতি রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পরিশ্রমের পর প্রতি শুক্রবার তিনি দরিদ্রদের মাঝে দুপুরের খাবার বিতরণ করেন।
এন কে বি নয়ন/কেএইচকে/এএসএম