সিজারের সময় নবজাতকের হাত ভাঙার অভিযোগ, বন্ধ হাসপাতাল

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৫:০১ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২২

ফরিদপুরের আরামবাগ প্রাইভেট হাসপাতাল সিজারের সময় এক নবজাতকের হাত ভেঙে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও ফরিদপুর সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন নবজাতকের বাবা মো. আরিফুল ইসলাম সজল।

এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. ছিদ্দিকুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযান পরিচালনা করে হাসপাতালটি বন্ধ ঘোষণা করেন। নানা অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে বন্ধ করে দেওয়া হয় হাসপাতালটি।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ১৩ ডিসেম্বর হাসপাতালটিতে সিজারের জন্য তার প্রসূতি স্ত্রীকে ভর্তি করা হয়। ভর্তির পরপরই তাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। ডা. শারমিন সুলতানা জুই এ সিজার করেন। কিন্তু সিজার চলাকালে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের হাতের কনুই থেকে হাড়ের জয়েন্ট ছুটে যায়। হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো কিছু না জানানোয় ভুক্তভোগীরা স্বাভাবিকভাবে ছাড়পত্র নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। পরের দিন নবজাতকটি অতিরিক্ত কান্না করতে থাকলে শিশু বিশেষজ্ঞ খ. ডা. মো. আব্দুল্লা হিস সায়াদ কাছে নিয়ে গেলে তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালের ডা. সৈয়দ আসিফ উল আলম সাহেবের কাছে রেফার করেন।

ডা. সৈয়দ আসিফ উল আলম সাহেব ঢাকা হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. সারোয়ার ইবনে সালামের কাছে রেফার করেন। বর্তমানে সেখানেই নবজাতকের চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসক জানান সিজারের সময় ডাক্তারদের অবহেলার কারণেই বাচ্চার হাতের কনুই থেকে হাড় আলাদা হয়ে যায়।

এ নিয়ে আরামবাগ হাসপাতালে যোগাযোগ করলে ডা. শারমিন সুলতানা জুইসহ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকের অভিভাবক মো. আরিফুল আলম সজলের সঙ্গে অসম্মানজনক ব্যবহার করেন। এছাড়া বিভিন্ন হুমকিও দেন।

jagonews24

এ বিষয়ে নবজাতকের বাবা মো. আরিফুল ইসলাম সজল জাগো নিউজকে বলেন, আমার বাচ্চার শারীরিক নির্যাতন, আর্থিক ও মানসিক নির্যাতনের জন্য উল্লেখিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। এরআগেও আরেকটি নবজাতক সিজারের সময় এ রকমই ঘটনা ঘটেছে বলে পরে জানতে পেরেছি।

হাসপাতালটি বন্ধের সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা.সিদ্দিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, হাসপাতালটিতে ডাক্তার ও পর্যাপ্ত নার্স না থাকা এবং অপ্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করার অভিযোগে হাসপাতালটির সব কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

১৫ জানুয়ারি ফরিদপুর পৌর শহরের আল-মদিনা প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গাইনি ডাক্তার ছাড়াই সিজার করতে গিয়ে নবজাতকের কপাল কেটে ফেলেন আয়া ও নার্স। কপালে ৯টি সেলাই নিয়ে শিশুটি এখন গুরুতর অসুস্থ। এ ঘটনায় ক্লিনিকের মালিক মো. জাকারিয়া মোল্লা পলাশ ও আয়া চায়না বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।

এ বিষয়ে আরামবাগ হাসপাতালের এমডি মাসুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, নবজাতকের হাড় ভাঙার অভিযোগটি সঠিক নয়। তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি থাকা অবস্থায় তারা কোনো অভিযোগ তোলেননি। এমনকি বাসায় নেওয়ার পরও অভিযোগ তোলেননি। ঘটনার মাস খানেক পর অভিযোগ তোলা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। আমাদের হাসপাতালে অন্য কিছু সমস্যা ছিল। এ কারণে সিভিল সার্জন সাময়িক বন্ধ রাখতে বলেছেন। আমরা সমস্যাগুলো সমাধান করে নতুন করে চালু করার ব্যবস্থা করবো।

এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]