ভেতরে ব্লেড রেখেই অস্ত্রোপচার, গরু নিয়ে হাসপাতালে কৃষক

উপজেলা প্রতিনিধি উপজেলা প্রতিনিধি শ্রীপুর (গাজীপুর)
প্রকাশিত: ০৪:২৭ পিএম, ২০ জানুয়ারি ২০২২
মুমূর্ষু গরুটি নিয়ে হাসপাতালে কৃষক শুক্কুর আলী

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের হতদরিদ্র কৃষক শুক্কুর আলী। তার দুটি গবাদি পশুই সম্পদ। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে যাচ্ছে। গতবছরের ডিসেম্বরে তার একটি গরুর (ষাঁড়) ঘাড়ে একটি পিণ্ড দেখা যায়।

বিষয়টি স্থানীয় পশুচিকিৎসককে দেখান শুক্কুর আলী। তবে কোনো উন্নতি হয়নি। তিনি গরুটি নিয়ে চলে আসেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ হাসপাতালে। সেখানে পরপর দুইদিন ইনজেকশন দেওয়া হয়। চিকিৎসার এক পর্যায়ে অস্ত্রোপচার করেন (১৮ ডিসেম্বর) ভেটেরিনারি সার্জন সামিউল বাছির। অস্ত্রোপচারের সময় ভেতরে সার্জিক্যাল ব্লেড রেখেই ব্যান্ডেজ করে দেন ওই চিকিৎসক।

বাড়িতে নেওয়ার পর গরুটির শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হতে থাকে। অস্ত্রোপচারের জায়গায় পচন ধরে। আবার স্থানীয় পল্লীচিকিৎসকের দ্বারস্থ হন শুক্কুুর আলী। সোমবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে অস্ত্রোপচারের জায়গায় ড্রেসিংয়ের এক পর্যায়ে ভেতর থেকে বের করে আনা হয় সেই ব্লেড। অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকলে বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) গরুটি নিয়ে আবার হাসপাতালে আসেন শুক্কুর আলী।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গরুটি বাদলা রোগে আক্রান্ত ছিল। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করালেও সুস্থ না হওয়ায় হাসপাতালে আনা হয়। ভেটেরিনারি সার্জন সামিউল বাছির গরুটির অস্ত্রোপচার করেন।

গরুর মালিক শুক্কুর আলী বলেন, তিনি অস্ত্রোপচারের সময় উপস্থিত ছিলেন। কাজের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসক সার্জিক্যাল ব্লেড হারিয়ে ফেলেন। পরে খোঁজাখুজি করে না পেয়ে নতুন আরেকটি ব্লেড দিয়ে তিনি কাটাছেঁড়ার কাজ শেষ করেন। ওই চিকিৎসক ব্লেডটি যে প্রাণীটির শরীরেই রেখে দিয়েছিলেন তা তিনি জানতেন না। গরুটির অবস্থা এখন মুমূর্ষু।

কান্না করতে করতে শুক্কুর আলী বলেন, চোখের সামনেই অবলা প্রাণীটি মারা যাচ্ছে। অবুঝ এ প্রাণীটির কী দোষ? আমারতো সবই শেষ হয়ে গেলো। তিনি ওই চিকিৎসকের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত পশুচিকিৎসক সামিউল বাছির বলেন, অস্ত্রোপচারের সময় তিনি ভেতরে ব্লেড রাখেননি। গরুটি বহুদিন ধরেই অসুস্থ। তাকে হেয় করতেই গরুটির মালিক এমন দাবি করছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুকুনুজ্জামান পলাশ বলেন, একজন ভুক্তভোগী চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ এনেছেন। গরুটি নিয়ে তিনি হাসপাতালে এসেছেন। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবো। যদি অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর/এমএস

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]