রূপপুরের দুটি ক্রেন থেকে ৬৫ লাখ টাকার ক্যাবল চুরি

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পাবনা
প্রকাশিত: ০৫:৪৫ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২২
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের লেইভার ক্রেন

পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি লেইভার ক্রেন থেকে বৈদ্যুতিক ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রকল্পের কাজের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ১২৬ চাকাবিশিষ্ট ক্রেন থেকে চুরি যাওয়া ক্যাবলের দাম ৬৫ লাখ টাকা।

এ ঘটনায় বুধবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা হয়েছে। প্রকল্পের ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি ভিএন তুরুটিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, রূপপুর প্রকল্পের অভ্যন্তরে জাহাজের মালামাল ওঠা-নামার নির্ধারিত জায়গায় থাকা ওই দুটি লেইভার ক্রেন ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের সময়ে ক্যাবলগুলো রাখা ছিল। কিন্তু ৯ জানুয়ারি পুনরায় জাহাজে ওই দুটি লেইভার ক্রেনের যান্ত্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময় ২৬৫ মিটার গুরুত্বপূর্ণ ক্যাবল পাওয়া যায়নি। এরপর থেকে রূপপুর প্রকল্পের জন্য নির্মিত জেটিতে মালামাল ওঠা-নামা অনিয়মিত রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ক্রেন দুটি থেকে ক্যাবলগুলো চুরি হয়েছে। কিন্তু এত টাকার মালামাল খোয়া গেলেও এ বিষয়ে প্রকল্পের অনেকেই মুখ খুলতে চাইছেন না।

এ ব্যাপারে জানতে (২১ জানুয়ারি) বিকেলে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. সৌকত আকবরকে মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি।

তবে রূপপুর প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, চুরির বিষয়টি স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এখানে প্রত্যেকটি সাব কন্ট্রাক্টরের নিজস্ব সিকিউরিটি আছে। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থার নিরাপত্তা রয়েছে। মূল ঠিকাদার রোসাটমেরও কিছু দায়িত্ব আছে।

তিনি আরও বলেন, গত সপ্তাহে রূপপুর প্রকল্পের পরিচালক ড. সৌকত আকবর রূপপুর প্রকল্পে এসে সেনাবাহিনীসহ অনেকের সঙ্গে সভা করেছেন। এ সময় সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়। তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, বুধবার রাত ১১টার পরে রূপপুর প্রকল্প থেকে ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি মামলার জন্য এজাহার জমা দেন। রাতেই মামলাটি গ্রহণ করা হয়।

চুরি প্রসঙ্গে ওসি বলেন, ওই ক্রেনের ক্যাবল চুরির সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের হয়তো নিয়মিত ওখানে যাতায়াত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলাটি তদন্তের জন্য পাকশী ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আতিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আমিন ইসলাম জুয়েল/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]