ব্যাংক থেকে বিদ্যালয়ের টাকা উঠিয়ে নিলেন প্রধান শিক্ষক!
গাজীপুরের শ্রীপুরের টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে সোয়া ২ লাখ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির করা অভিযোগের ভিত্তিতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর নির্বাচিত হয়ে সভাপতির দায়িত্ব পাই। এর আগে বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি ছিল। যেখানে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন সভাপতি ছিলেন। সে সময় সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালনা হতো। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব আমার স্বাক্ষরে পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু ব্যাংক হিসাবে প্রধান শিক্ষক তার স্বাক্ষর পরিবর্তন করেননি।
তিনি আরও বলেন, আমি দায়িত্ব পালনের পরও উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের নামে সোনালী ব্যাংকের শ্রীপুর শাখায় থাক ব্যাংক হিসাব থেকে তিনটি চেকের মাধ্যমে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৭৮ টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করেন। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রয় সংক্রান্ত ভাউচারে আমার স্বাক্ষর জাল করার বিষয় সামনে এলে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে আমি ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি দেড় বছর হয়ে গেলেও ব্যাংকে আমার স্বাক্ষর কার্ডই জমা দেওয়া হয়নি। আগের কমিটির স্বাক্ষরে প্রধান শিক্ষক টাকা তুলে নিতেন।
টাকা তুলে নেওয়ার বিষয়ে এডহক কমিটির তৎকালীন সভাপতি উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকরাম হোসেন বলেন, আমি দেড় বছর আগে দায়িত্ব ছেড়েছি। এখন কীভাবে আমার স্বাক্ষরে টাকা উঠবে। হয়তো আমার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রধান শিক্ষক এমন কাজ করেছেন। বিষয়টির তদন্ত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও আমি মিলে বিষয়টির তদন্ত করছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে প্রতিবেদন দেওয়া হবে। তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি থাকার পরও দীর্ঘ সময় ধরে আগের এডহক কমিটির সভাপতির স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন এক ধরনের অনিয়ম। উত্তোলিত টাকা কোথায় কীভাবে খরচ করেছে তার জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে।
গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, যদি এমন হয়ে থাকে তাহলে এটি গুরুতর অনিয়ম। তদন্তের জন্য এরই মধ্যে দুই সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এসজে/এমএস