এক ঘাট ইজারা হলো দুইবার, ৯ মাস ঘুরেও বুঝে পাননি সিদ্দিকুর

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি পটুয়াখালী
প্রকাশিত: ০৯:২৩ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২২

পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সিদ্দিকুর রহমান (২৯)। তিনি সদর উপজেলার নন্দীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পড়াশোনার পাশাপাশি কিছু করার জন্য জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে ৯ মাস আগে ইজারা নিয়েছিলেন রাঙ্গাবালী উপজেলার ফেলাবুনিয়া লঞ্চঘাট।

বন্ধুদের কাছ থেকে ধারদেনা করে ৩৬ হাজার টাকায় ঘাটটি ইজারা নেন। করোনাকালে যেহেতু কলেজের পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ এ কারণে ঘাটের ইজারা তুলে জীবন পরিচালনা করার পরিকল্পনা ছিল সিদ্দিকুরের। তবে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে। ইজারা নেওয়ার পর লঞ্চঘাটে গিয়ে সিদ্দিকুর দেখতে পান নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষও (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাটটি ইজারা দিয়েছে। এ নিয়ে জেলা প্রশাসকসহ রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে কয়েক দফায় চিঠি দিয়েও ঘাট কিংবা টাকা কোনোটিই বুঝে পাননি এ ইজারাদার।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রাঙ্গাবালী উপজেলার ফেলাবুনিয়া পন্টুনবিহীন লঞ্চঘাটটি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ইজারা আহ্বান করে। সিদ্দিকুর রহমান সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ২০২১ সালের ২১ মার্চ ঘাটের ইজারা পান। পরবর্তীতে ২৫ মার্চ এক বছরের জন্য সরকারি কোষাগারে ইজারার টাকা ৩৬ হাজার টাকা জমা দেন সিদ্দিকুর। কিন্তু ওই একই ঘাট বিআইডব্লিউটিএ ইজারা দেওয়ায় সিদ্দিকুর রহমান ঘাটের টাকা আদায় করতে পারছেন না। বর্তমানে বিআইডব্লিউটিএর ইজারাদার নাসির উদ্দিন টাকা উত্তোলন করছেন।

ভুক্তভোগী সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে আমি ঘাট ইজারা পাই। সরেজমিনে গিয়ে দেখি বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের নাম পরিবর্তন করে পন্টুন দিয়ে ইজারা দিয়েছে। তখন আমি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কাছে দেখা করলে তিনি রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ঘাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য বলেন। আমি তার সঙ্গে ছয়বার দেখা করলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করলে তিনি ইউএনওকে কারণ দর্শানোর চিঠি দিলে তাও শোনেননি।’

আক্ষেপ করে সিদ্দিকুর বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাছ থেকে ঘাট ইজারা নিয়েও বুঝে পেলাম না, টাকাও পেলাম না। চিঠিতেই চলে গেলো নয় মাস। এ কারণে আমি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশফাকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ফেলাবুনিয়া ঘাটের ইজারাদার প্রথমে একবার আমার কাছে এসেছিল। তখন আমি বলেছি দুই পক্ষের কাগজপত্র নিয়ে আমার কাছে আসেন। কিন্তু সে পরে আর আসেনি। তদন্ত করতে বলেছি। সেই রিপোর্ট আমার কাছে দিয়েছে কি না আমার খেয়াল নেই, আর কেউ আমাকে বলেওনি। আমি এখন খোঁজ নিয়ে দেখছি।’

ইজারার বিষয়ে জানতে চাইলে পটুয়াখালী বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক ও নদীবন্দর কর্মকর্তা মহিউদ্দিন খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ সরকারি বিধি মোতাবেক ঘাট ইজারা দিয়েছে। দেড় লাখ টাকায় এটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন কীভাবে ইজারা দিয়েছিল সেটি আমার দেখার বিষয় নয়।’

এ বিষয়ে পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘ঘাটটি বুঝিয়ে কেন দেওয়া হয়নি এ জন্য রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। যেহেতু সে দেয়নি এ কারণে তাকে আবারও চিঠি দেওয়া হবে। প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

আব্দুস সালাম আরিফ/এসজে/এএসএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]