স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার!

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রকাশিত: ০৯:৩৩ এএম, ২৬ জানুয়ারি ২০২২

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেঁষে গড়ে উঠেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এসব ক্লিনিকের বেশিরভাগই অনুমোদনবিহীন। আইন অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটার বা কিছুক্ষেত্রে আধা কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টার স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু এখানে এ আইন শুধু খাতা কলমে।

গোমস্তাপুরে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেঁষে একই গেটের মধ্যে গড়ে উঠেছে রহনপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও রাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। অবস্থা এমন যে মনে হয় বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার দুটিতে যেতে অতিক্রম করতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে মূল গেট দিয়ে প্রবেশের পর একটি গলিতে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার দুটি। এমনকি এখানে চিকিৎসা নিতে গেলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটক দিয়েই যেতে হয়।

রহনপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি আবার পাশের জেলা নওগাঁর পোরসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুব হাসানের মালিকানাধীন।

জানা গেছে, রহনপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ছাড়াও রাজ ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে আরেকটি ক্লিনিক রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গেট ঘেঁষে। এমনকি গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকশ মিটারের মধ্যে ৪টি ক্লিনিক রয়েছে।

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকের নিয়োজিত বেতনভুক্ত কর্মচারীরা সরকারি হাসপাতালের রোগীদের ভাগিয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে চিকিৎসার নামে হয়রানি করে এসব দালালরা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীদের নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষার নামে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো।

স্থানীয় শিক্ষক মাতোয়ারা বেগম বলেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘেঁষে এভাবে অবৈধভাবে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছে। সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সের সহযোগিতায় এসব ক্লিনিক গড়ে ওঠে। অথচ বেশিরভাগেরই নেই লাইসেন্স। নিয়ম-নীতি না মেনেই চলছে এসব ক্লিনিক।

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা এনজিওকর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, বোনকে চিকিৎসা করাতে নিয়ে এসেছি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মহিলা বিভিন্নভাবে ভুল বুঝিয়ে পাশের একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। এরপর দেয় একগাদা টেস্ট। যে টেস্টের কোনো ভিত্তি নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পোরসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুব হাসান ২০১৭ সালের আগ পর্যন্ত গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগে আবারও নিজ এলাকা গোমস্তাপুরে ফিরতে আবেদন করেছেন তিনি।

এ বিষয়ে পোরসা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মাহবুব হাসান জানান, রহনপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আমার মালিকানা নেই। শুধু সেখানকার চেম্বারে আমি বসি। এছাড়াও হাসপাতালের পাশে ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার না করার কোনো বিধান নেই। আর রহনপুর ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সকল আবেদন করা হয়েছে। তবে এখনও অনুমোদন পায়নি তারা।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুর রশীদ জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই কিলোমিটারের মধ্যে বেসরকারি ক্লিনিক দেয়া যাবে না। তবে বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে তা অনুসরণ করা হয় না। সরকারি হাসপাতাল ঘেঁষে ডায়াগনস্টিক-ক্লিনিক স্থাপন ও অনুমোদনবিহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সোহান মাহমুদ/এফএ/জেআইএম

করোনা ভাইরাসের কারণে বদলে গেছে আমাদের জীবন। আনন্দ-বেদনায়, সংকটে, উৎকণ্ঠায় কাটছে সময়। আপনার সময় কাটছে কিভাবে? লিখতে পারেন জাগো নিউজে। আজই পাঠিয়ে দিন - [email protected]