ফরিদপুরে রসুনের কেজি সাড়ে ৭ টাকা!
ফরিদপুরের চরাঞ্চল এলাকায় পুরোনো রসুন ৫ থেকে সাড়ে ৭ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা মণ হিসেবে দাঁড়ায় ২০০-৩০০ টাকা। তবে খুচরা বাজারে আকারভেদে প্রতি কেজি রসুন ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মণ হিসেবে ৬০০-৮০০ টাকা। দাম না থাকায় নতুন রসুন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। দাম এভাবে নিচের দিকে নামতে থাকলে রসুন চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ারও আশঙ্কা করছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার নগরকান্দা, মধুখালী, সদর উপজেলা, সদরপুর, চরভদ্রাসন, ভাঙ্গা উপজেলায় মসলাজাতীয় ফসল পেঁয়াজ ও রসুনের আবাদ বেশি হয়। এর মধ্যে সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল, অম্বিকাপুর, মাধবদিয়া, ঈশানগোপালপুর, নগরকান্দা, সালথা ও ভাঙ্গার বিস্তীর্ণ এলাকায় রসুনের আবাদ হয়। গতবারের মতো এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। কিন্তু দাম নিয়ে চিন্তিত তারা।
সদর উপজেলার আদর্শ কৃষক সেকেন্দার মিয়া ও শওকত সেকেন্দার বলেন, গত বছর এ জেলায় রসুনের ভালো ফলন হয়েছিল। এবারও রসুনের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু দাম নিয়ে শঙ্কার যেন শেষ নেই। পুরোনো রসুনই এখন প্রতি মণ ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চরমাদবদিয়ার কৃষক হাচান ফকির বলেন, এ বছর আমি দুই বিঘা জমিতে রসুন আবাদ করেছি। সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০-৫৭ হাজার টাকা। এবার ৪০ মণ রসুন পেতে পারি। কিন্তু ২০০-৩০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। তাই লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা শ্রমিকের খরচই উঠবে কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
নগরকান্দার কৃষক সেকেন মাতুব্বর জাগো নিউজকে বলেন, আমার নিজের জমিতে রসুন চাষ হচ্ছে। আবার কৃষকদের কাছ থেকে কিনেও বিক্রি করি। এবার রসুনের দাম একেবারেই কম। পুরোনো রসুন কিনছি ৩০০ টাকা মণ ধরে। বাজারে সেরা রসুনের দাম পড়ছে মাত্র ৩৩০-৩৫০ টাকা।
সদরপুরের হাওলাদার লতিফুল হক বলেন, সদরপুর বাজারে রসুন এবার পানির দামে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে এখন দেশি রসুনের কদর কম। কারণ, বিদেশি রসুন দেখতে বড় এবং লোভনীয়। তাই দেশি রসুনের দামও কম।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. হযরত আলী জাগো নিউজকে বলেন, চলতি বছর ফরিদপুরে রসুন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৭৯০ হেক্টর জমিতে। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে রসুনের দাম যেভাবে কমছে তাতে কৃষকরা কষ্টের মূল্যও ঘরে তুলতে পারবেন কি না সন্দেহ আছে।
এন কে বি নয়ন/এসজে/জিকেএস