আলফাডাঙ্গায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম সম্পাদক হলেন ‘রাজাকারপুত্র’

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:৪৮ এএম, ৩১ জানুয়ারি ২০২২

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় কাউন্সিল ছাড়াই স্বেচ্ছাসেবক লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাকিস্থান বাহিনীর সহযোগী শান্তি কমিটির চেয়ারম্যানের ছেলেকে। এ নিয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

৫ ডিসেম্বর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখা দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে, হারিচুর রহমান সোহানকে সংগঠনের উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

এদিকে স্বাধীনতা বিরোধীর ছেলেকে পদ দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ঘোর আপত্তি তুলে জেলা আওয়ামী লীগের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা এই অভিযোগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

জানা গেছে, আলফাডাঙ্গার আলোচিত শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মোল্যার ছেলে হারিচুর রহমান সোহানকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সম্পাদকের পদ দিয়েছে সংগঠনের উপজেলা শাখা। পদ পাওয়া সোহানের বড় ভাই নুরুল ইসলাম লিটন স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং এক সময় উপজেলা যুবদলের সভাপতিও ছিলেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গায় পাক বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ছিলেন উপজেলার কামারগ্রামের আবদুর রহমান মোল্যা। সরকারের গেজেটে রাজাকার হিসেবে আবদুর রহমান মোল্যার নামও আছে। আবার পুলিশের বিশেষ শাখার গোপন প্রতিবেদনেও আছে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাক বাহিনীর সহযোগী শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আবদুর রহমান। মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ায় বঙ্গবন্ধু সরকার তাকে গ্রেফতার করে এবং ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন তিনি।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগে পদ পাওয়া হারিচুর রহমান সোহান ছাত্রজীবনে কোনোদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেননি। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কোনো সভা-সমাবেশেও অতীতে দেখা যায়নি তাকে। বরং ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এখন হঠাৎ করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনে দায়িত্ব পাওয়ায় অবাক হয়েছেন দলের নেতাকর্মীরাও।

এ বিষয়ে আবদুর রহমান মোল্যার ছেলে সদ্য পদ পাওয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-সম্পাদক, অভিযুক্ত হারিচুর রহমান সোহানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা উপজেলার স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি এনায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। তবে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে সেক্ষেত্রে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জেলা ও কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রবিন বলেন, আলফাডাঙ্গা উপজেলা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। করোনার কারণে কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও বলেন, কোনো স্বাধীনতা বিরোধীর ছেলে স্বেচ্ছাসেবক লীগে আসতে পারবে না। আমরা তদন্ত করে সত্যতা পেলে ব্যাবস্থা নেবো।

এ প্রসঙ্গে ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি শওকত আলী জাহিদ জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা কমিটি আগে থেকে আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপ আলোচনা করেনি। অভিযোগের মাধ্যমে জানতে পেরেছি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা অভিযোগ করেছেন, হারিচুর রহমান সোহানের বাবা একাত্তরে শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জেলা কমিটির অনুমোদন ছাড়া উপজেলায় কাউকে পদ-পদবি দেওয়ার সুযোগ নেই। জেলা কমিটির পক্ষ থেকে কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি।

এন কে বি নয়ন/এফএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।