রেজিস্ট্রি চিঠি এলো হুমকি নিয়ে!
বহুদিন পর বাড়িতে হঠাৎ ডাকযোগে রেজিস্টি চিঠি নিয়ে এলেন ডাক পিয়ন। অধীর আগ্রহ নিয়ে প্রাপকরা চিঠিটি বুঝে নিলেন। কিন্তু প্রেরক ছিলেন অচেনা। তারপরও আগ্রহ নিয়ে খামটি খুলে থমকে গেলেন প্রাপকরা। চিঠিতে ভাঙা ভাঙা হাতে লেখা ছিল চাঁদার পরিমাণ।
এই দাবি একজনের কাছে নয়; একই প্রক্রিয়ায় চাওয়া হয়েছে চার ব্যক্তির কাছে। প্রতিজনের কাছে দাবি করা হয়েছে ৩ লাখ টাকা করে। ডিজিটাল এ সময় এমন এনালগ ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের আলকরা গ্রামে। এনিয়ে দুই ভুক্তভোগী থানায় সাধারণ ডায়রিও করেছেন।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী রুবি আক্তার জাগো নিউজকে জানান, গত ২৩ জানুয়ারি দুপুর ২টায় উপজেলার পদুয়া পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান রেজিস্ট্রি করা একটি চিঠি নিয়ে বাড়িতে আসেন। আগ্রহ নিয়ে চিঠিটি গ্রহণ করে দেখি ফেনী থেকে পাঠানো হয়েছে। প্রেরকের ঠিকানায় লেখা ছিল মহিম, ফেনী কমার্স কলেজ, ৩০৯ এসএসকে রোড, ফেনী।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘রুবি তোমার একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে চাও? যদি চাও তাহলে ৩ লাখ টাকা ভুট্টুর ঘরের পূর্ব পাশের জানালার ছানসেটের ওপর রেখে দিও ২৯ জানুয়ারির মধ্যে। যদি কোনো ধরনের পুলিশ, বিজিবি বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়, তাহলে তোমার ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দিয়ে আগুন দেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, আমার একমাত্র ছেলে আবদুল মমিন আল মেহেদী (১৮) ফেনী মহিপাল সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। বর্তমানে আমি এবং আমার ছেলে দুজনই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
অপর ভুক্তভোগী একই গ্রামের ডা. আবদুল মমিন পাটোয়ারী জানান, ১ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টায় পদুয়া পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান রেজিস্ট্রিকৃত একটি চিঠি নিয়ে আসেন। চিঠিটি গ্রহণ করে দেখি প্রেরকের নাম মো. আওয়াল, ১০৭ এসএসকে রোড, ফেনী।
চিঠিতে লেখা হয়েছে, ‘ডা. মমিন তুমি তোমার ছেলে হারিছকে যদি বাঁচাতে চাও, তাহলে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পশ্চিম পাড়ার স্বপনের দোকানে ব্যাগে করে ৩ লাখ টাকা রেখে আসবে। নয়তো তোমার ছেলেকে এই তারিখের পর যে কোনোদিন গুলি করে মারা হবে। অথবা অপহরণ করে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হবে। এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে আরও বিপদ হবে।’
ডা. আবদুল মমিনের ছেলে মো. হারিছ আহম্মেদ পাটোয়ারী বর্তমানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহনের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
এছাড়াও একই এলাকার প্রবাসী সাহাব উদ্দিন ও স্বাধীনের কাছেও একই পরিমাণ চাঁদা দাবি করেছে চক্রটি। তবে তারা এ বিষয়ে থানায় কোনো সাধারণ ডায়রি করেননি।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, মঙ্গলবার রাতে রুবি আক্তার এবং ডা. মমিনুল ইসলাম পাটোয়ারীর দায়েরকৃত দুটি সাধারণ ডায়রি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। চিঠিগুলো পার্শ্ববর্তী ফেনীর একটি পোস্ট অফিস থেকে পাঠানো বলে খামে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।
জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ/এএসএম