কক্সবাজারে চিকিৎসক বদলি হলেও কর্মবিরতিতে ইন্টার্নরা

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
প্রকাশিত: ০৫:০৪ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগে দায়িত্বরত ইন্টার্ন চিকিৎসক, রোগী এবং তাদের স্বজনকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে। তবে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেননি ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ শাখার সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে শুরু করা কর্মবিরতি শুক্রবারও অব্যাহত রেখেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের দাবি, হাসপাতালে কর্মরত ৬ ইন্টার্ন চিকিৎককে শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ সভাপতি মোস্তায়ীন বিল্লাহ তকী, সাধারণ সম্পাদক ইমন সেন, অর্ণব দাশ, মোহাম্মদ হোসাইনের ৩ মাসের বেতন কর্তন করার শাস্তির সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ডা. তরিকুল ইসলাম আবিদের এক মাসের বেতন কর্তনের পাশাপাশি ২ মাস এবং মোহাম্মদ মুস্তফা ইমনকে দুই মাসের বেতন কর্তন ও একমাস অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের শাস্তির সুপারিশ করেছেন ডা. মাহফুজের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ঘোষিত শাস্তি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কর্মে ফিরবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ সভাপতি মোস্তায়ীন বিল্লাহ তকী।

এদিকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন একাধিক রোগীর স্বজনরা।

কক্সবাজার ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. মীর ম.ম. বিল্লাহ জানান, গত বছরের ২৬ নভেম্বর কক্সবাজার সদর হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানিসহ অশালীন আচরণের অভিযোগ করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এ ঘটনায় উল্টো প্রহসনমূলক ইন্টার্নদের ওপর অপরাধ চাপিয়ে দিয়ে ছয় ইন্টার্নের বিরুদ্ধে আদেশ জারি করে কর্তৃপক্ষ।

আমাদের দাবিমতো অভিযুক্ত গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজুর রহমানকে বদলি করা হলেও ছয়জন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে জারিকৃত আদেশ প্রত্যাহার হয়নি। তা প্রত্যাহার না হলে কর্মবিরতি চলমান থাকবে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের তত্ববধায়ক ডা. মমিনুর রহমান জানান, কোনো এক কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ডা. মাহফুজুর রহমানকে তার অফিসের দরজা বন্ধ করে মারধর করেন। বিষয়টি জানার পর ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠন হলে ডা. মাহফুজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উত্থাপন করেন নারী ইন্টার্নরা। তেমনটি হয়ে থাকলে তাকে প্রহার বা তদন্ত কমিটি গঠনের আগে কেন করা হয়নি, এর কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি তারা (ইন্টার্নরা)। এরপরও তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে ডা. মাহফুজের অশালীন আচরণের প্রমাণ মেলে। এরপরই তাকে অন্যত্র বদলি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পত্র লেখা হয়। পাশাপাশি ডা. মাহফুজকে প্রহারকারি ছয় ইন্টার্ন চিকিৎসককে ভিন্ন ভিন্ন শাস্তির ঘোষণা করা হয়। এরই জেরে বৃহস্পতিবার ইন্টার্নরা কর্মবিরতি শুরু করে।

বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানানোর পরই সন্ধ্যার পর ডা. মাহফুজের বদলি আদেশও আসে। শুক্রবার তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। ইন্টার্নদের অভিযোগে একজন চিকিৎসককে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, এরপরও তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার না করে অব্যহত রেখেছেন। উভয় পক্ষের কর্মকাণ্ড আমাদের বিব্রত করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।