মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলে পাঠদান

জেলা প্রতিনিধি
জেলা প্রতিনিধি জেলা প্রতিনিধি ফরিদপুর
প্রকাশিত: ০৮:৩৮ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২

ময়না এ.সি. বোস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৩৭ সালে। ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা সদর থেকে মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান অবস্থা খুবই বেহাল। বিদ্যালয়ের সেমিপাকা একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আরেকটিতে দেখা দিয়েছে ফাটল। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। প্রতিনিয়ত ধসে পড়ার আতঙ্ক কাজ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মনে। অভিভাবকরাও এ নিয়ে চিন্তিত।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ময়না এ.সি. বোস ইনস্টিটিউটে সেমি পাকা ভবনের বেহাল দশার কারণে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। ১৯৩৭ সালে স্থাপিত স্কুলের পুরনো ভবনটি ১৯৯৫-৯৬ সালের অর্থ বছরে পুনঃনির্মাণ করা হয়। সেমি পাকা ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। এভাবে চলছে বেশ কয়েক বছর।

বৃষ্টি হলেই ভবনটির টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে। ভবনটিতে ৩টি কক্ষের মধ্যে একটি মেয়েদের কমনরুম, একটি প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ আর অন্যটি শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে স্কুলটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৮১ জন৷ শিক্ষক, কর্মচারী রয়েছেন ১৪ জন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫ বছর আগে সংস্কার করা সেমিপাকা ভবনটির প্লাস্টারগুলো খসে খসে পড়ছে। ওপরের চাল ভেঙে পড়েছে। টিনের চালে মরিচা পড়ে অসংখ্য ছিদ্র দেখা দিয়েছে। বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। রোদেও কষ্ট হয়।

jagonews24

বিদ্যালয়ের সুজিত কীর্তনিয়া, শাওন শীল, দিপ্ত রাজবংশীসহ একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, বৃষ্টির দিনে ঘরের চাল দিয়ে পানি পড়ে বই খাতা ভিজে যায়। রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে ক্লাস করতে পারে না তারা। এমনকি কমনরুমে থাকতেও সমস্যা হয়। ক্লাসে থাকাকালীন সময়টা তারা খুব ভয়ে থাকে কখন টিনের চাল, ওয়াল ভেঙে মাথার ওপর পড়ে।

সরজিৎ কীর্তনীয়া, পরিমল রায় ও স্থানীয় ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বিল্লাল শেখ (বাকা) জাগো নিউজকে বলেন, বিদ্যালয়টির বয়স প্রায় ৮৫ বছর। পুরনো ভবনসহ মোট তিনটি ভবন রয়েছ। তারমধ্যে পুরনো ভবনটি দীর্ঘ বছর আগে একবার সংস্কার করা হয়। যার বর্তমান অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। বাকি দুটি ভবনের একটি দ্বিতল বিশিষ্ট আরেকটি একতলা। যার বয়সও প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বছর। একতলা ভবনটিতেও ফাটল দেখা দিয়েছে। ঝঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে এ নিয়ে বেশ চিন্তায় থাকি। জরাজীর্ণ আর বেশ পুরনো ৩টি ভবন মিলেও শিক্ষার্থীদের জায়গা সংকুলান হয় না।

তারা আরও বলেন, পাঁচ শতাধিক ছাত্র-ছাত্রীদের শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পুরনো ভাঙাচোরা ঘরে এখন ক্লাস নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ ও জনপ্রতিনিধিদের নিকট এর সমাধানের দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে ময়না এ.সি. বোস ইনস্টিটিউটের প্রধান শিক্ষক মো. মোকলেছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, খুবই ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। কী করবো? উপায় নেই। ভবনের যে অবস্থা, পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা ঠিক না। ভবনে ঝুঁকি আর বিকল্প পথ গাছতলায় ক্লাস নেওয়া। কিন্তু তাতেও রোদ-বৃষ্টির সমস্যা।

jagonews24

তিনি আরও বলেন, এ পুরনো ভবনটির দ্রুত সংস্কার না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাই ভবনটির দ্রুত সংস্কারের জোর দাবি জানাই।

এ ব্যাপারে বোয়ালমারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রহিম জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবন সংস্কার ও নতুন ভবনের তালিকা করে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ পাওয়া যায়। তবে উক্ত বিদ্যালয়টির বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জাগো নিউজকে বলেন, এমন নাজুক ও জরাজীর্ণ অবস্থার বিষয়টি আমাকে কেউ অবগত করেনি। অবশ্যই বিদ্যালয়টির বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আমার পক্ষ থেকে সাধ্যমতো প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও নিয়ম অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরের চেষ্টা করা হবে বলেও তিনি জানান।

এন কে বি নয়ন/এফএ/এএসএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।